ব্যারাকপুর: বাপি দাস—শুধু নামই নয়, বিরিয়ানির দুনিয়ায় এক পরিচিত মুখ। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে সেই স্বাদ-স্মৃতির পাশে জুড়ে গেছে আতঙ্কের ছায়া। ফের দুষ্কৃতীদের নিশানায় ব্যারাকপুরের খ্যাতনামা বিরিয়ানি ব্যবসায়ী।
সূত্রের খবর, কয়েকদিন আগে ফোন আসে বাপি দাসের কাছে। ফোনের ওপারে এক অচেনা কণ্ঠস্বর—হুমকি স্পষ্ট, ‘তোলা না দিলে তোমার পরিণতি হবে বেলঘরিয়ার ব্যবসায়ীর মতোই।’
অর্থাৎ ২০২২ সালের সেই আতঙ্কের দিন যেন ফিরে আসার ইঙ্গিত। যখন টিটাগড় ওয়্যারলেস মোড়ে অবস্থিত ‘ডি বাপি বিরিয়ানি’ দোকানে এলোপাথাড়ি গুলি চালায় দুষ্কৃতীরা। সেই ঘটনায় আহত হয়েছিলেন দোকানের কর্মী ও এক ক্রেতা। পুরো ঘটনাটি ধরা পড়েছিল সিসিটিভি ফুটেজে।
এবার আবারও হুমকি। মাস পেরোতে না পেরোতেই ফের ফোন আসে বাপি দাসের কাছে। ভয়ে নিজের বাসভবনে গৃহবন্দি হয়ে পড়েন তিনি। তবে এ বার আর দেরি করেননি—সরাসরি যোগাযোগ করেন পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে।
অভিযুক্ত আনিস ঝা-কে দ্রুত গ্রেফতার করে পুলিশ। গতকাল তাকে আদালতে পেশ করা হলে পাঁচদিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারক।
উল্লেখ্য, এর আগে জুন মাসেও অনুরূপ হুমকি ফোন এসেছিল বাপি দাসের ছেলে অনির্বাণ দাসের কাছে। অভিযোগ, ২০ লক্ষ টাকা তোলা চাওয়া হয়েছিল।
‘ডি বাপি বিরিয়ানি’-র শাখা ছড়িয়ে রয়েছে ব্যারাকপুর, মধ্যমগ্রাম ছাড়াও রাজ্যের নানা প্রান্তে। জনপ্রিয়তা তুঙ্গে থাকা এই ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে ফের চক্রান্তের অভিযোগ সামনে আসতেই ফের চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে ব্যারাকপুর-সহ গোটা উত্তর ২৪ পরগনায়।
বর্তমানে গোটা বিষয়টি ঘিরে তদন্তে নেমেছে ব্যারাকপুর কমিশনারেটের পুলিশ। ব্যবসায়ী মহলে তৈরি হয়েছে আতঙ্ক, পাশাপাশি প্রশ্ন উঠছে—দু’বছর পরও কেন বারবার নিশানা করা হচ্ছে এই বিরিয়ানি সাম্রাজ্যকে?







