আগামী ২ আগস্ট থেকে রাজ্যজুড়ে শুরু হচ্ছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘোষিত ‘আমাদের পাড়া, আমাদের সমাধান’ কর্মসূচি। চলবে ৩ নভেম্বর পর্যন্ত। ইতিমধ্যেই নবান্ন থেকে এই প্রকল্প ঘিরে স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর (এসওপি) প্রকাশ করা হয়েছে। পুজোর ছুটি এবং সরকারি ছুটির দিন ছাড়া প্রতিটি জেলার শহর ও গ্রামাঞ্চলে চলবে এই বিশেষ শিবির।
কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য, কম খরচে দ্রুত সমাধানযোগ্য সমস্যা চিহ্নিত করে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়া। এজন্য রাজ্য প্রশাসন ব্লক স্তর পর্যন্ত একাধিক কমিটি ও টাস্ক ফোর্স গঠন করেছে। রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ পন্থের নেতৃত্বে গঠিত হয়েছে স্টেট অ্যাপেক্স কমিটি, যাতে রয়েছেন সমস্ত দপ্তরের সচিব এবং কলকাতা পুরসভার কমিশনার। রাজ্যস্তরের টাস্ক ফোর্সে রয়েছেন ১৩ জন আইএএস এবং বিসিএস আধিকারিক। প্রতিটি জেলায় জেলাশাসকের নেতৃত্বে পৃথক টাস্ক ফোর্সও গঠন করা হয়েছে।
নবান্ন সূত্রের খবর, প্রতিটি তিনটি বুথ মিলিয়ে একটি সেন্টার তৈরি হবে। প্রায় ৮০ হাজার বুথের ভিত্তিতে রাজ্যজুড়ে ২৭ হাজার শিবির করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সমস্যার কথা শোনার পর নির্ধারিত সময়ে সেই সমস্যার সমাধান করতে হবে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে। ১৫ নভেম্বরের মধ্যে সমস্যাগুলি যাচাই করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং ১৫ জানুয়ারির মধ্যে কাজ শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এসওপি-তে যেসব কাজ করা যাবে:
মূলত ১৫টি ধরনের ক্ষুদ্র পরিসরের নাগরিক পরিষেবার কাজ করা যাবে এই প্রকল্পে। যেমন—
নিকাশি নালা তৈরি বা সংস্কার
পানীয় জলের ট্যাঙ্ক, টিউবওয়েল, পাইপলাইনের মাধ্যমে জল সরবরাহ
রাস্তায় আলো বসানো
কমিউনিটি টয়লেট, অঙ্গনওয়াড়ি সেন্টারের ছাদ মেরামত
খেলার মাঠ ও বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ
প্রাথমিক স্কুল রং করা
শৌচাগার, পুকুর সংস্কার
বর্জ্য ব্যবস্থাপনা
কমিউনিটি শেড, বাজার বা বাসস্টপে ছাউনি বসানো
এসব কাজ স্বচ্ছভাবে অনলাইনের মাধ্যমে পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
যেসব কাজ করা যাবে না:
নতুন স্কুল বা সরকারি ভবন নির্মাণ
জমি কেনা বা ভাড়া নেওয়া
ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়া প্রকল্প
আইনি জটিলতাযুক্ত জমি ব্যবহার
কলকাতা পুরসভার জন্য পৃথক সার্কুলারে বলা হয়েছে, বুথভিত্তিক কমিটি গঠন করে এলাকাভিত্তিক সমস্যা নির্ধারণ করতে হবে। প্রতিটি কমিটির নিজস্ব হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ থাকবে, যার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থাকবেন পুর কমিশনার নিযুক্ত নোডাল অফিসার।
রাজ্য প্রশাসনের আশা, সরাসরি জনগণের সঙ্গে যুক্ত থেকে দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে ছোট ছোট সমস্যার সমাধান করাই হবে এই প্রকল্পের মূল সাফল্যের চাবিকাঠি।







