কাজের টোপে নারী পাচারের চক্রান্ত আবারও চিহ্নিত হল উত্তরবঙ্গে। আগেই ট্রেনপথে পাচার বন্ধ করতে সক্রিয় হয়েছিল রেল পুলিশ (জিআরপি), এবার পাচারকারীরা রুট বদলে বাসপথে শুরু করেছিল নতুন খেলা। তবে তাদের সেই ছক সফল হল না। শিলিগুড়ির প্রধাননগর থানার পুলিশের তৎপরতায় উদ্ধার হল ৩৪ জন তরুণী, গ্রেফতার হল তিন পাচারকারী, যাদের মধ্যে রয়েছেন দুই মহিলা।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আলিপুরদুয়ার সহ উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন চা বাগান ও প্রত্যন্ত এলাকার তরুণীদের তামিলনাড়ুতে কাজ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে পাচারের পরিকল্পনা করে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। তাদের পরিকল্পনা ছিল শিলিগুড়ি থেকে রাঁচি হয়ে বাসে সরাসরি তামিলনাড়ুতে পৌঁছে দেওয়া। কিন্তু রবিবার রাতে শিলিগুড়ির চেকিংয়ের মুখে পড়ে যায় তারা।
একটি বাসেぎ থাকে সন্দেহজনক ভাবে একাধিক তরুণী। পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করলে তাঁরা কেউই ঠিকভাবে বলতে পারেন না, কোথায় ও কী কাজে যাচ্ছেন। কেউ বলেন, কাজের জন্য তামিলনাড়ু যাচ্ছেন। কিন্তু সেই সংক্রান্ত কোনও বৈধ নথি বা নিয়োগপত্র দেখাতে পারেননি কেউই।
এরপরই তৎপর হয় প্রধাননগর থানার পুলিশ। বাসের দায়িত্বে থাকা তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়, যাদের মধ্যে দু’জন শিলিগুড়ির বাসিন্দা মহিলা এবং একজন স্থানীয় পাচারচক্রের এজেন্ট। পুলিশ জানিয়েছে, ওই এজেন্ট প্রতিটি তরুণী পাচার বাবদ ৪ হাজার টাকা করে পাচ্ছিল।
এই চক্রকে ধরতে আগেই সতর্ক ছিল পুলিশ। কিছুদিন আগেই রেলপথে পাচার রুখে দিয়েছিল জিআরপি, ৫৬ জন তরুণীকে রক্ষা করা হয়েছিল পটনাগামী ক্যাপিটাল এক্সপ্রেস থেকে। এবার রেল নয়, বাসে করে পাচারের চেষ্টা চালিয়েছিল চক্রটি।
ধৃতদের ইতিমধ্যেই আদালতে তোলা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া তরুণীদের মধ্যে বেশ কয়েকজনকে তাদের পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। বাকিদেরও সোমবারের মধ্যে পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করছে পুলিশ।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, পাচারের নতুন রুট নিয়েও এখন সতর্ক পুলিশ প্রশাসন। উত্তরবঙ্গে নারী পাচারের বাড়বাড়ন্ত রুখতে সীমান্ত ও আন্তঃরাজ্য পরিবহণ রুটে নজরদারি আরও জোরদার করা হচ্ছে।







