ত্রিপুরার সোনাপুর উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ঘটে গেল হৃদয়বিদারক ঘটনা। শিক্ষিকার অপমানে বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করল এক দশম শ্রেণির ছাত্রী। অভিযোগ, সহপাঠীদের সামনেই ‘চিটিং’-এর অভিযোগ তুলে খাতা ছুড়ে মারেন শিক্ষিকা। অপমানে কান্নায় ভেঙে পড়ে মেয়েটি। এরপর বাড়ি ফিরে বিষ পান করে।
মাত্র ১৫ বছর বয়স, অথচ পড়াশোনায় ছিল দারুণ মেধাবী। ক্লাসের প্রথম সারির ছাত্রী। স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকারা পর্যন্ত তার প্রশংসায় পঞ্চমুখ ছিলেন। পরিবার জানায়, মেয়েটির নিজের হাতে উত্তর লেখা নিয়েই সন্দেহ প্রকাশ করেন শিক্ষিকা। ছাত্রী বারবার নিজের নির্দোষিতার কথা বললেও তাতে কর্ণপাত করেননি তিনি।
শরীরে বিষক্রিয়ার প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছাত্রীকে বরপাথরি থেকে শান্তিরবাজার হয়ে জিবি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে সে।
পরিবারের তরফে সরাসরি অভিযোগ করা হয়েছে শিক্ষিকার বিরুদ্ধে। তাদের দাবি, মানসিকভাবে চূড়ান্ত অপমানিত হয়েই আত্মঘাতী হতে বাধ্য হয় মেয়ে। পরিবারের একমাত্র মেয়ের এমন মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ গোটা গ্রাম।
ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন রাজ্যের প্রাক্তন স্বাস্থ্যমন্ত্রী তথা কংগ্রেস বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মন। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, পরিবারকে যথাযথ আইনি সহায়তা ও আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।
এই ঘটনায় ফের প্রশ্নের মুখে পড়ছে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা।
একটা শিক্ষার প্রতিষ্ঠান যদি নিরাপত্তা তো দূর, মানসিক সহনশীলতা দিতে না পারে, তাহলে আগামী প্রজন্ম কোথায় দাঁড়াবে?
সতর্কবার্তা:
যেকোনওরকম মানসিক অবসাদে ভোগা ব্যক্তি আত্মহত্যার কথা ভাবলে, অনুগ্রহ করে পরিবার, বন্ধুবান্ধব অথবা হেল্পলাইনে যোগাযোগ করুন। সাহায্য পাওয়া সম্ভব। আপনি একা নন।
সাহায্যের জন্য জাতীয় হেল্পলাইন:
📞 9152987821 (স্নেহা ফাউন্ডেশন)
📞 1800-599-0019 (iCall – টাটা ইনস্টিটিউট)







