হিমাচল প্রদেশের ভয়াবহ পরিবেশগত ভারসাম্যহীনতা নিয়ে এবার কড়া ভাষায় উদ্বেগ প্রকাশ করল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। সুপ্রিম কোর্টের স্পষ্ট মন্তব্য—”এই পরিস্থিতি যদি চলতে থাকে, তবে ভারতের মানচিত্র থেকেই মুছে যেতে পারে হিমাচল প্রদেশ।”
শুক্রবার বিচারপতি জে বি পার্দিওয়ালা ও বিচারপতি আর মহাদেবনের ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, রাজস্ব আয় যতই জরুরি হোক না কেন, তা পরিবেশের বিনিময়ে হতে পারে না। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব হিমাচলে মারাত্মক রূপ নিচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন দুই বিচারপতি।
একটি ‘সবুজ অঞ্চল’ ঘোষণা সংক্রান্ত মামলায় হিমাচল হাইকোর্টের পিটিশন খারিজের প্রেক্ষিতে এই মন্তব্য উঠে আসে সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণে। যদিও হাইকোর্টের রায়ে হস্তক্ষেপ করেনি সুপ্রিম কোর্ট, তবে রাজ্য ও কেন্দ্র—দু’পক্ষকেই সতর্ক করেছে কড়া ভাষায়।
সুপ্রিম কোর্ট জানায়, বারবার ভূমিধস, রাস্তা ধস, বাড়ি ভেঙে পড়া—এই সবের জন্য শুধু প্রকৃতিকে দোষারোপ করলেই চলবে না। মানুষের লোভ, পরিবেশ বিচার না করে লাগাতার নির্মাণকাজই এই বিপদের মূল কারণ।
আদালত বিশেষজ্ঞদের উদ্ধৃতি দিয়ে জানায়, জলবিদ্যুৎ প্রকল্প, চার লেনের রাস্তা, জঙ্গল সাফাই, বহুতল নির্মাণ—এই সব প্রকল্পই হিমাচলের প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট করছে। বিচারপতিদের মতে, “হিমালয়ের কোলে থাকা রাজ্য হওয়ায় এখানে যেকোনও উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের আগে ভূতত্ত্ববিদ, পরিবেশবিদ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মতামত নেওয়া বাধ্যতামূলক হওয়া উচিত।”
পর্যটনকেও এই সংকটের একটি বড় কারণ হিসেবে তুলে ধরে আদালত জানিয়েছে, “নিয়ন্ত্রণহীন পর্যটনের জেরে হিমাচলের পরিবেশ ও সামাজিক কাঠামো বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে।” আদালতের পরামর্শ, সমস্ত হিমালয় সংলগ্ন রাজ্যকে একজোট হয়ে এমন পরিকল্পনা করতে হবে যাতে স্থানীয় ভূপ্রাকৃতিক ও পরিবেশগত পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই উন্নয়ন প্রকল্প গৃহীত হয়।
সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে, রেজিস্ট্রারকে একটি জনস্বার্থ মামলা (PIL) নথিভুক্ত করতে হবে এবং হিমাচল সরকারকে আগামী দিনে এই সমস্যার মোকাবিলায় কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা স্পষ্টভাবে জানাতে হবে। মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য হয়েছে ২৫ আগস্ট।
সবশেষে সুপ্রিম কোর্টের চরম সতর্কবার্তা—”হিমাচল এখনই না সাবধান হলে, আগামী দিনে সমগ্র দেশবাসীকেই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি হতে হবে। উন্নয়নের নামে পরিবেশকে আর অবহেলা করার সময় নেই।”







