পর্তুগিজ ফুটবলের এক উজ্জ্বল অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি। এফসি পোর্তোর কিংবদন্তি অধিনায়ক এবং মুম্বই সিটি এফসির প্রাক্তন প্রধান কোচ জর্জ কোস্তা হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে প্রয়াত হলেন। মঙ্গলবার ক্লাবের ট্রেনিং গ্রাউন্ডেই আচমকা কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয় তাঁর। বয়স হয়েছিল মাত্র ৫৩ বছর।
এফসি পোর্তোর তরফে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, “পোর্তোর কিংবদন্তি অধিনায়ক এবং বর্তমানে পেশাদার ফুটবলের ডিরেক্টর জর্জ কোস্তা আজ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। ক্লাবের ইতিহাসে তিনি এক অনন্য ও গর্বের নাম।”
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানাচ্ছে, ট্রেনিং চলাকালীন হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন কোস্তা। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষরক্ষা হয়নি।
জর্জ কোস্তা ছিলেন এফসি পোর্তোর ইতিহাসের অন্যতম স্তম্ভ। ক্লাবের হয়ে দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি জিতেছেন ৮টি লিগ শিরোপা, এবং ২০০৪ সালে জোসে মোরিনহোর অধীনে জিতেছিলেন ঐতিহাসিক উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ। এছাড়া পর্তুগিজ জাতীয় দলের হয়ে তিনি খেলেছেন ৫০টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ।
তিনি পর্তুগালের ‘গোল্ডেন জেনারেশন’-এর অন্যতম সদস্য, যাঁরা ১৯৯১ সালে লুইস ফিগোদের সঙ্গে অনূর্ধ্ব–২০ বিশ্বকাপ জিতেছিলেন।
সাবেক তারকা ফুটবলার হিসেবে খ্যাতির পাশাপাশি কোচ হিসেবেও খেলার জগতে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন কোস্তা। ভারতের মুম্বই সিটি এফসির কোচ হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করেছিলেন ২০১৮-২০ মরসুমে।
পর্তুগালের প্রধানমন্ত্রী লুইস মন্তেনেগ্রো এক আবেগঘন বার্তায় লিখেছেন, “এটা একটা বিশাল ধাক্কা। জর্জ কোস্তা ছিলেন নিষ্ঠা, নেতৃত্ব এবং কমিটমেন্টের প্রতীক।”
চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাব বেনফিকা ও স্পোর্টিং লিসবন-ও তাঁর মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেছে। বেনফিকা জানিয়েছে, “পর্তুগিজ ফুটবল আজ অনেক গরীব হয়ে পড়ল। কোস্তা ছিলেন এক মহীরুহ— খেলোয়াড়, কোচ ও ম্যানেজার— সব ভূমিকাতেই সফল।”
মুম্বই সিটি এফ সি তাদের ‘X’ হ্যান্ডলে লেখে একজন নেতা, একজন যোদ্ধা এবং আমাদের মুম্বই সিটি পরিবারের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিলেন তিনি।
২০১৮ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে ক্লাবের প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন জর্জ, এবং সেই সময়ে তিনি আমাদের দলকে শুধু মাঠে নয়, মনেও নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।
এই কঠিন সময়ে তাঁর পরিবার ও প্রিয়জনদের প্রতি আমাদের প্রার্থনা ও সমবেদনা রইল।
আকস্মিক এই মৃত্যুতে শুধু পর্তুগাল নয়, আন্তর্জাতিক ফুটবল মহলও শোকস্তব্ধ। তাঁর স্মৃতি চিরকাল রয়ে যাবে পোর্তো সমর্থকদের হৃদয়ে এবং বিশ্ব ফুটবলের পাতায়।







