মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে তৈরি হওয়া উত্তেজনা আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর হয়ে উঠেছে যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর নির্ধারিত একাধিক ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক সফর বাতিল করে জরুরি ভিত্তিতে হোয়াইট হাউজে ফিরে গিয়েছেন।
মার্কিন প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ইরানকে ঘিরে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে উচ্চপর্যায়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। সেই কারণেই ট্রাম্প তাঁর পুত্রের বিয়ের অনুষ্ঠান ও বেডমিনস্টার গলফ ক্লাব সফরও স্থগিত করেছেন। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে তিনি জানান, দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটনে উপস্থিত থাকাই তাঁর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
হোয়াইট হাউজে টানটান পরিস্থিতি
ওয়াশিংটনে ইতিমধ্যেই যুদ্ধকালীন তৎপরতার আবহ তৈরি হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের দাবি, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও শীর্ষ সেনা কর্তাদের নিয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছেন। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স, ডিফেন্স সেক্রেটরি পিট হেগসেথ, সিআইএ ডিরেক্টর জন ব়্যাটক্লিফ এবং চিফ অব স্টাফ সুজি ওয়াইলস-র শীর্ষ আধিকারিকরাও।
সূত্রের খবর, মার্কিন সেনাবাহিনীর ছুটিও বাতিল করা হয়েছে এবং বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকতে বলা হয়েছে। একইসঙ্গে ট্রাম্প ঘনিষ্ঠ মহলের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে বি-২ স্টেলথ বোমারু বিমানের ভিডিও সামনে আসায় জল্পনা আরও বেড়েছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, এটি ইরানের উদ্দেশে কড়া বার্তা।
ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ঘিরেই বাড়ছে চাপ
মার্কিন প্রশাসনের দাবি, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি দ্রুত এগোচ্ছে এবং সেটিই বর্তমান উত্তেজনার প্রধান কারণ। ট্রাম্প স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন, ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে দেওয়া হবে না। যদিও কূটনৈতিক আলোচনার পথ এখনও পুরোপুরি বন্ধ হয়নি, তবুও সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনাই এখন বেশি জোরালো বলে মনে করা হচ্ছে।
বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় প্রভাবের আশঙ্কা
বিশেষজ্ঞদের মতে, পশ্চিম এশিয়ায় বড় সংঘাত শুরু হলে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে ব্যাপক অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। যার সরাসরি প্রভাব পড়বে ভারত-সহ বহু দেশের জ্বালানির দামে। বাড়তে পারে পেট্রোল-ডিজেল থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দামও।
বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল আমদানিকারক দেশ চিনের অর্থনীতিও এই সংঘাতের ফলে ধাক্কা খেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পাকিস্তান ও আরব আমিরাত মধ্যস্থতার চেষ্টা চালালেও এখনও পর্যন্ত উত্তেজনা কমার কোনো ইঙ্গিত মেলেনি।







