পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে ফের গরম হাওয়া বইতে শুরু করেছে ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে। ২০২১ সালের ভোটে শূন্য হাতে ফিরতে হয়েছিল বামফ্রন্টকে, কংগ্রেসের সঙ্গে হাত মিলিয়েও ফল মেলেনি। ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনে সেই চিত্রের খুব একটা পরিবর্তন ঘটেনি। তবুও মুর্শিদাবাদ লোকসভা এলাকার রাণীনগর বিধানসভায় সিপিআইএমের এগিয়ে থাকা দলের ঘরে নতুন আশার আলো জ্বালিয়েছে।
সাম্প্রতিক এক সমীক্ষা—যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রতিক্রিয়া, AI-ভিত্তিক বিশ্লেষণ এবং মোট ১৪,৭৮৯ জনের মতামত থেকে তৈরি—ইঙ্গিত দিচ্ছে, বামফ্রন্ট যদি কংগ্রেস বা আইএসএফের সঙ্গে জোট না করে স্বাধীনভাবে ময়দানে নামে, তাহলে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে বড় পরিবর্তন দেখা যেতে পারে। সমীক্ষার পূর্বাভাস অনুযায়ী, বিজেপির ভোটভিত্তিতে উল্লেখযোগ্য ভাঙন ঘটতে পারে।
বিজেপির এই সম্ভাব্য ধসের পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে রাজ্য রাজনীতিতে তাদের সক্রিয় বিরোধিতার অভাব এবং তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে পর্দার আড়ালের আঁতাতের অভিযোগ। সারদা, নারদা, রোজভ্যালি, শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি, রেশন দুর্নীতি, গরুপাচার, এমনকি আরজি কর মামলার মতো আলোচিত কেলেঙ্কারিতে তদন্তের ধীরগতি বা ব্যর্থতা নিয়েও জনমনে ক্ষোভ জমেছে। অভিযোগ, ক্ষমতায় থেকেও বিজেপি এই দুর্নীতিগুলির মূল পর্যন্ত পৌঁছাতে চায়নি বা পারেনি।
অন্যদিকে, বিজেপি নেতাদের মধ্যে শুভেন্দু অধিকারীর মতো প্রভাবশালী মুখরা সাম্প্রদায়িক ইস্যুতে সক্রিয় হলেও, স্থানীয় সমস্যা নিয়ে প্রায় নীরব থাকায় ভোটারদের একাংশ অসন্তুষ্ট। যদিও তৃণমূল কংগ্রেসের ভোটে বড় ধরনের ভাঙন সমীক্ষায় ধরা পড়েনি, তবুও মুসলিম ভোটের একটি অংশ সরে যেতে পারে বলে ধারণা, যা সরাসরি বামেদের দিকে যেতে পারে।
তবে সমীক্ষা এটাও বলছে, ভোটারদের কাছে বামেদের ভাবমূর্তি ধীরে ধীরে উন্নত হলেও, মাঠপর্যায়ে তা এখনো পুরোপুরি দৃশ্যমান নয়। এর কারণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে নেতৃত্বের অনীহা, সাধারণ মানুষের সঙ্গে সীমিত যোগাযোগ এবং সংগঠনে নতুন প্রজন্মের নেতৃত্বের অভাব।
সব প্রতিকূলতা সত্ত্বেও সমীক্ষার ইঙ্গিত, এককভাবে লড়াই করলে বামফ্রন্ট ১২ থেকে ১৮টি আসনে জয়ী হতে পারে এবং ৩০-৩৫টি আসনে দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হলে বামেদের গ্রাসরুট পর্যায়ে ঘন ঘন যোগাযোগ, তরুণ নেতৃত্বের উত্থান এবং জনমুখী আন্দোলনের প্রয়োজন।







