গুজরাটের আমদাবাদের বনসকাঁথা জেলায় ঘটে গেল এক হৃদয়বিদারক ঘটনা। চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন বুকে নিয়ে NEET পরীক্ষায় সাফল্য পেয়েছিল ১৮ বছরের চন্দ্রিকা চৌধুরী। ৪৭৮ নম্বর পেয়ে সরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তির যোগ্যতাও অর্জন করেছিল সে। কিন্তু কৃষক পরিবারের সদস্য এই কিশোরীর পড়াশোনা ও পেশা নির্বাচনের ইচ্ছায় রাজি ছিল না তার পরিবার। শেষমেশ সেই আপত্তিই কেড়ে নিল তার প্রাণ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এমবিবিএস পড়ার ইচ্ছে ও পরিবারের আপত্তির কারণে চন্দ্রিকা বাড়ি ছেড়ে প্রেমিক হরেশ চৌধুরীর সঙ্গে লিভ-ইনে থাকতে শুরু করে। এই সম্পর্ক মেনে নিতে না পেরে, ‘পরিবারের সম্মান রক্ষায়’ (honour killing) চন্দ্রিকার বাবা সেন্ধার চৌধুরী ও কাকা শিবরাম নৃশংস হত্যার পরিকল্পনা করে। অভিযোগ, দুধে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে খাওয়ানোর পর দোপাট্টা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় চন্দ্রিকাকে। এরপর দ্রুত দেহ দাহ করে গ্রামবাসীদের বলা হয়, হৃদরোগে মৃত্যু হয়েছে মেয়েটির।
ঘটনার তদন্তে নেমে কাকা শিবরামকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ, তিনি বর্তমানে জেল হেফাজতে। তবে অভিযুক্ত বাবা এখনও পলাতক। এই ঘটনার পর নিহতের প্রেমিক হরেশ গুজরাট হাইকোর্টে আবেদন জানিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, চন্দ্রিকাকে পরিবার কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করত, ফোন ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার থেকে বঞ্চিত করে শুধুমাত্র ঘরের কাজে বাধ্য করা হত।
চিকিৎসক হওয়ার এক উজ্জ্বল স্বপ্ন শেষ হয়ে গেল নির্মম পারিবারিক সহিংসতার বলিতে।







