বলিউডে হাসির ইতিহাস লিখতে গেলে প্রথম দিকের পাতাতেই থাকবে একটি নাম—জনি লিভার। অনন্য মুখভঙ্গি, নিখুঁত সংলাপ টাইমিং আর অসীম প্রাণশক্তিতে ভর করে তিনি কৌতুকাভিনয়কে দিয়েছেন এক নতুন মর্যাদা। আজ, ১৪ আগস্ট, সেই হাসির জাদুকরের জন্মদিন।১৯৫৭ সালে অন্ধ্রপ্রদেশের প্রাকাশম জেলায় জন্ম নেন জন প্রকাস রাও জানুমালা। দরিদ্র তেলেগু খ্রিস্টান পরিবারে বেড়ে ওঠা জনি মুম্বইয়ের বস্তির কঠিন বাস্তবের মাঝেও হারাননি হাসি ও অনুকরণের ক্ষমতা। ‘হিন্দুস্তান লিভার’-এর কর্মচারী থাকাকালীন অফিস অনুষ্ঠানে তাঁর অসাধারণ পারফরম্যান্সের জন্য সহকর্মীরা ডাকতে শুরু করে “জনি লিভার” নামে—যা পরবর্তীতে তাঁর পরিচয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে ওঠে।
১৯৮২ সালে ‘তামাচা’ ছবিতে ছোট্ট চরিত্র দিয়ে বলিউডে পা রাখলেও ৯০-এর দশকে বাজিগর, দুলহে রাজা, ইশক, হাসিনা মান যায়েগি—এসব ছবিতে তাঁর তুমুল জনপ্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ে। তিন শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করে তিনি প্রমাণ করেছেন, নির্মল হাস্যরসও দর্শকের হৃদয়ে গভীর দাগ কাটতে পারে।স্টেজ শো ও স্ট্যান্ড-আপ কমেডিতে তাঁর অবদান সমানভাবে প্রশংসিত। অশ্লীলতার আশ্রয় না নিয়েই তিনি প্রজন্মের পর প্রজন্মকে হাসিয়েছেন। ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ডসহ অসংখ্য সম্মান তাঁর ঝুলিতে।
ব্যক্তিগত জীবনে স্ত্রী সুষমা ও সন্তান জেসি ও জেমির সঙ্গে তিনি এক অনুকরণীয় পারিবারিক জীবন কাটাচ্ছেন। আজকের দিনে, তাঁর ভক্তরা একবাক্যে বলেন—জনি লিভার কেবল কৌতুকাভিনেতা নন, তিনি হাসির সর্বজনীন ভাষার এক অদ্বিতীয় দূত।







