৭৯তম স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে লালকেল্লা থেকে জাতির উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বিশেষভাবে তুলে ধরলেন ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সাফল্য ও সেনাবাহিনীর সাহসিকতা। তিনি বীর জওয়ানদের স্যালুট জানিয়ে জানান, এই অভিযানে ভারতীয় সেনারা এমন শাস্তি দিয়েছে শত্রুপক্ষকে, যা তাদের কল্পনারও বাইরে। পহেলগাঁওয়ে জঙ্গিদের নৃশংস হামলার ঘটনার উল্লেখ করে মোদী বলেন, “ধর্ম দেখে মানুষ হত্যা, পরিবারের সামনে হত্যা—এতে গোটা দেশের রক্ত ফুটছিল। অপারেশন সিঁদুর সেই ক্ষোভেরই বহিঃপ্রকাশ।”
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে আসে ২২ তারিখের ঘটনার পর সেনাবাহিনীকে দেওয়া ‘খোলাছুট’ সিদ্ধান্তের প্রসঙ্গও। তিনি জানান, সেনারা সময় ও লক্ষ্য নিজেরাই ঠিক করে সীমান্ত পেরিয়ে শত্রুর ঘাঁটি ধ্বংস করেছে, যার ফলে পাকিস্তানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং প্রতিদিন নতুন তথ্য প্রকাশ্যে আসছে।
সন্ত্রাসবাদ ও পাকিস্তানের পারমাণবিক হুমকি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী কড়া সতর্কবার্তা দেন। তাঁর ভাষায়, “সন্ত্রাসবাদী ও তাদের আশ্রয়দাতা, উভয়েই মানবতার শত্রু।” তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ভারত আর কোনো পারমাণবিক হামলার হুমকি সহ্য করবে না, প্রয়োজনে সেনাবাহিনীই প্রতিক্রিয়ার ধরন নির্ধারণ করবে।
সিন্ধু জলচুক্তি নিয়েও মোদীর কড়া অবস্থান প্রকাশ পায়। তিনি বলেন, “রক্ত ও জল একসঙ্গে বইবে না।” তাঁর দাবি, সিন্ধুর জল ভারতের কৃষকদের অধিকার, যা আর শত্রুপক্ষের জমিতে প্রবাহিত হবে না।
এছাড়াও আত্মনির্ভরতার গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, ‘অপারেশন সিঁদুর’-এ ব্যবহৃত সমস্ত অস্ত্রই ছিল ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’। তাঁর কথায়, “যদি আমরা অন্যের ওপর নির্ভর করতাম, তবে এত বড় মাপের অভিযান সম্ভব হতো না।” গত দশকে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ভারতের আত্মনির্ভরতার সাফল্যই এই অভিযানে প্রতিফলিত হয়েছে বলে মোদীর দাবি।







