কলকাতা আবার প্রস্তুত এক রোমাঞ্চে ভরা রবিবারের জন্য। ১৭ই আগস্ট, সল্টলেকের যুবভারতীতে মুখোমুখি হবে ইস্টবেঙ্গল ও মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট। শতবর্ষের এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবার ডুরান্ড কাপের নকআউট লড়াই—অর্থাৎ ভুলের সুযোগ নেই, যে হারবে সে বিদায় নেবে।
ইস্টবেঙ্গল: নতুন রূপে পুরনো আবেগ
এই মরশুমে ইস্টবেঙ্গল যেন অন্য চেহারায়। গ্রুপ লিগে ৫-০, ১-০, ৬-১—টানা আক্রমণাত্মক ফুটবল। নতুন বিদেশি হামিদ আহাদাদ, মিগুয়েল, ডায়ামানটাকোস মিলে একেবারে আগুনে আক্রমণভাগ গড়েছেন। মিডফিল্ডে সৌভিক চক্রবর্তী আত্মবিশ্বাসী—“ডার্বি সবসময় ৫০-৫০, তবে আমরা প্রস্তুত।”
তাদের বড় শক্তি: দ্রুত আক্রমণ আর গোল করার ক্ষুধা।
দুর্বলতা: ডিফেন্স এখনো পুরোপুরি পরীক্ষিত নয়, রাশিদকে ঘিরে।
মোহনবাগান: অভিজ্ঞতার ভরসা
মোহনবাগান গ্রুপে একেবারে অনবদ্য। লিস্টন কলাকো একাই ৫ গোল করেছেন, পাশে সাহাল, ম্যাকলারেন, কামিংসদের মতো ভারী নাম। তবে মানভীর সিং ও কিয়ান নাসিরির চোট তাদের ছন্দে কিছুটা ব্যাঘাত ঘটিয়েছে।
শক্তি: বড় ম্যাচের অভিজ্ঞতা, ধারাবাহিকতা, ডার্বি মানসিকতা।
দুর্বলতা: ডিফেন্সে গতি কমে গেলে সমস্যায় পড়তে পারে, ইনজুরির ধাক্কা।
ইতিহাস বনাম বর্তমান
ইস্টবেঙ্গল সাম্প্রতিক CFL ডার্বি ৩-২ জিতেছে।
তবে বড় মঞ্চে, ISL ও সুপার কাপ—সাম্প্রতিক চারটি ডার্বিতেই জয়ী মোহনবাগান।
ডুরান্ড কাপে ট্রফি সংখ্যা: মোহনবাগান ১৭, ইস্টবেঙ্গল ১৬। অর্থাৎ কালকের ম্যাচ কেবল কোয়ার্টার ফাইনাল নয়, একপ্রকার “প্রেস্টিজ ফাইট”।
কে জিতবে, কেন?
বিশ্লেষকরা বলছেন, ইস্টবেঙ্গল এ বার ফেভারিট—কারণ তাদের আক্রমণভাগ ভয়ঙ্কর ফর্মে। মোহনবাগানকে যদি প্রথম ২০ মিনিটে গোল খেতে হয়, ম্যাচ বের করে আনা কঠিন হবে।
তবে মোহনবাগানের অভিজ্ঞতা, বড় ম্যাচে নিজেদের উঁচুতে তুলে ধরার ক্ষমতা, আর কলাকোর ফর্ম—তাদের সমানভাবে বিপজ্জনক রাখছে।
সম্ভাব্য ফলাফল:
যদি ম্যাচ খোলা খেলায় হয় → ইস্টবেঙ্গল ২-১ এগিয়ে যেতে পারে।
যদি কড়াকড়ি, ধৈর্য আর মানসিক লড়াই হয় → মোহনবাগান অভিজ্ঞতায় জিতে নিতে পারে ১-০।
এ ম্যাচ জিতলেই শুধু সেমিফাইনাল নয়, কলকাতার হৃদয় জয়। কারণ এখানে ট্রফির চেয়েও বড় হলো অস্তিত্বের লড়াই।
কাল তাই সল্টলেক স্টেডিয়ামে শুধু ফুটবল নয়, এক ঐতিহাসিক যুদ্ধ মঞ্চস্থ হতে চলেছে—
“লাল-সবুজ বনাম লাল-হলুদ: কে থামাবে, কে থামবে না—উত্তর মিলবে ১৭ই আগস্টেই।”







