জন্মাষ্টমীর দিন দহি হান্ডি উৎসবকে কেন্দ্র করে ঘোর বিপত্তি মহারাষ্ট্রে। উৎসবের আবহেই প্রাণ হারালেন দুইজন, আহতের সংখ্যা ছুঁইছুঁই একশো। শনিবার রাতে রাজ্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মোট ৯৫ জন আহত হয়েছেন এই উৎসবে। তাঁদের মধ্যে অন্তত দুজন আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন। ৭৬ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হলেও এখনো ১৯ জন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
শনিবার দুপুরে মর্মান্তিকভাবে প্রাণ হারায় ১৪ বছরের এক কিশোর। জানা গেছে, আন্ধেরির আরদশ নগর এলাকায় অসুস্থ হয়ে পড়ে রোহন মোহন মালভী নামে এক কিশোর। গাঁওদেবী গোবিন্দ পাঠকের এই সদস্য দহি হান্ডিতে অংশ না নিলেও টেম্পোর মধ্যে বসে থাকতে থাকতেই অচৈতন্য হয়ে যায়। ঘাটকুপার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরিবারের দাবি, সম্প্রতি জন্ডিসে আক্রান্ত হয়েছিল রোহন।
এর কয়েক ঘণ্টা পরেই ঘটে আরেকটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। মানখুর্দে দহি হান্ডির প্রস্তুতি চলাকালীন উঁচু থেকে পড়ে মৃত্যু হয় ৩২ বছরের জগমোহন শিবকিরণ চৌধুরীর। জানা গেছে, হান্ডিটি দড়িতে বেঁধে ঝুলিয়ে দেওয়ার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তিনি নীচে পড়ে যান। দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষরক্ষা হয়নি।
প্রতি বছর মহারাষ্ট্র সহ একাধিক রাজ্যে দহি হান্ডি উৎসব ধুমধাম করে পালিত হয়। কৃষ্ণের শৈশবলীলা অনুকরণ করেই আয়োজিত হয় এই উৎসব। বিশেষভাবে তৈরি মানব পিরামিড ভেঙে ঝুলন্ত দধির হাঁড়ি ফাটানো হয় উৎসবের মূল আকর্ষণ। তবে প্রতিবছরই এ ধরনের দুর্ঘটনার খবর সামনে আসে। এবারও তার ব্যতিক্রম হল না।
প্রশাসনের দাবি, দুর্ঘটনা এড়াতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হলেও হুড়োহুড়ি, ভিড় এবং উচ্চতা থেকে পড়ে যাওয়াই দুর্ঘটনার মূল কারণ। তবুও প্রাণহানির ঘটনায় উৎসবের আনন্দ ম্লান হয়ে গেছে মহারাষ্ট্র জুড়ে।







