বারাণসী: ভারত এমন এক দেশ যেখানে প্রায় প্রতিদিনই ঘটে অবিশ্বাস্য সব ঘটনা। এবার গঙ্গার তীরে ঘটল এমনই এক রহস্যময় ঘটনা, যা দেখে হতবাক হয়ে গিয়েছেন স্থানীয়রা।
মাত্র ২১ বছরের এক যুবক সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে ভর্তি ছিলেন মণ্ডুয়াডিহের একটি স্বনামধন্য হাসপাতালে। দীর্ঘ চিকিৎসার পর চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরিবার শোকে ভেঙে পড়ে। বুধবার সন্ধ্যায় মৃতদেহ নিয়ে যাওয়া হয় বারাণসীর গঙ্গা ঘাটে, শেষকৃত্যের জন্য।
কিন্তু চিতায় শোয়ানোর আগেই ঘটে অঘটন। গঙ্গাজলে স্নান করানোর সময় হঠাৎ নড়েচড়ে ওঠেন ওই যুবক। হাত-পা কাঁপতে শুরু করতেই আশপাশের মানুষজন চমকে যান। কান্না থেমে পরিবারে দেখা দেয় আশার আলো। দ্রুত তাকে নিয়ে যাওয়া হয় বিএইচইউ-র ট্রমা সেন্টারে। সেখানে চিকিৎসকরা সক্রিয়ভাবে চিকিৎসা শুরু করেন। কিন্তু মাত্র ১৫ মিনিট পর ফের তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। এবার পূর্ণ পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরেই আনুষ্ঠানিকভাবে মৃত্যু নিশ্চিত করেন চিকিৎসকরা।
মৃত যুবকের নাম বিকাশ। তিনি স্থানীয়ভাবে বিয়ের অনুষ্ঠানে জল সরবরাহের কাজ করতেন। দুর্ঘটনার দিনও কাজ সেরে ফেরার পথে দুর্ঘটনায় পড়েন তিনি। পরিবারের অভিযোগ, মণ্ডুয়াডিহের ওই হাসপাতালে সঠিক চিকিৎসা হয়নি। তারা মনে করছেন, অবহেলার কারণেই বিকাশের প্রাণ গিয়েছে। ইতিমধ্যেই পরিবার ওই হাসপাতালের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের কথা ভাবছে।
স্থানীয়রা বলছেন, “মাত্র কয়েক মিনিটের জন্য হলেও মনে হয়েছিল ছেলেটি বেঁচে ফিরল। এটা অলৌকিক ছাড়া আর কী?” অন্যদিকে পরিবার এখনও বিশ্বাস করে, সময়মতো উন্নত চিকিৎসা পেলে হয়তো বিকাশ আজও জীবিত থাকতেন।
এই ঘটনায় বারাণসী জুড়ে তীব্র আলোড়ন তৈরি হয়েছে। চিকিৎসা অবহেলা নাকি ঈশ্বরের অলৌকিক খেলা— সেই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে সকলের মনেই।
আপনার কী মনে হয়—এটা কি সত্যিই এক অলৌকিক ঘটনা, নাকি হাসপাতালের গাফিলতির ফল?







