রাশিয়ার থেকে তেল কেনায় ভারতের উপর ধারাবাহিকভাবে শুল্ক চাপাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইতিমধ্যেই ভারতের উপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছিল। সম্প্রতি আরও ২৫ শতাংশ শুল্ক বসানোয় ক্ষুব্ধ নয়াদিল্লি। শুধুমাত্র ভারতই নয়, ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আমেরিকারই প্রাক্তন কূটনীতিকরা। রাষ্ট্রপুঞ্জে প্রাক্তন মার্কিন রাষ্ট্রদূত নিকি হেইলি সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত যদি এভাবেই চলতে থাকে, তবে ওয়াশিংটন-নয়া দিল্লি সম্পর্ক ভাঙনের মুখে পরবে।
ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত ছিলেন নিকি হেইলি। ২০২৪ সালের নির্বাচনে ট্রাম্পের হয়ে প্রচার করেছিলেন তিনি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের নীতি ও আচরণে বিরক্ত হয়ে প্রকাশ্যে সমালোচনায় মুখর হয়েছেন তিনি। তাঁর মতে, ভারতকে কখনোই চিনের প্রতিপক্ষ হিসেবে বিচার করা যাবে না। বরং, শুল্ক আরোপ কিংবা ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের মতো ইস্যুকে হাতিয়ার করলে দুই দেশের সম্পর্কের ভিত্তি নড়ে যাবে।
সম্প্রতি ভারত-আমেরিকার সম্পর্ক বিভিন্ন কারণে অবনতির দিকে এগোচ্ছে। ভারত-পাকিস্তান সংঘাত মেটাতে আমেরিকার মধ্যস্থতার প্রস্তাব সরাসরি খারিজ করেছে নয়াদিল্লি। তার পাশাপাশি অতিরিক্ত শুল্ক চাপিয়ে দিয়েছে ওয়াশিংটন। এই অবস্থায় নিকি হেইলির বক্তব্য, আমেরিকার উচিত ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক দৃঢ় রাখা, কারণ দীর্ঘমেয়াদে ভারতের কৌশলগত গুরুত্ব আরও বাড়বে।
তিনি উল্লেখ করেন, বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে ভারতের উত্থান শুধু আমেরিকার স্বার্থেই নয়, বরং চিনের আধিপত্য রুখতেও গুরুত্বপূর্ণ। বৃহস্পতিবার যেখানে চিনের শ্রমশক্তি ক্রমশ বয়স্ক হচ্ছে, সেখানে ভারতের রয়েছে বিপুল যুব কর্মক্ষমতা। যার ফলে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ভারতের ভূমিকা ভবিষ্যতে বহুগুণ বাড়বে।
নিকি হেইলির মতে, কমিউনিস্ট শাসিত চিনের তুলনায় গণতান্ত্রিক ভারত বিশ্বের জন্য কোনো ঝুঁকি তৈরি করবে না। বরং দুই দেশের সহযোগিতা বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্য গঠনে সহায়ক হবে। তাই ট্রাম্প প্রশাসনের একতরফা শুল্কনীতি ভারত-আমেরিকা সম্পর্কের জন্য ক্ষতিকর বলেই মত তাঁর।







