বিদেশ

সস্তার অন্তর্বাস কিনে হাসপাতালের শয্যায় তরুণী

ইন্টারনেটের দৌলতে এখন কেনাকাটা একেবারেই হাতের মুঠোয়। অনলাইন অফারে পাওয়া যায় হাজারো রকম বিচিত্র জিনিসপত্র। কিন্তু যাচাই না করে কেনা পণ্য যে কতটা বিপদ ডেকে আনতে পারে, তার জ্বলন্ত উদাহরণ হয়ে উঠলেন ব্রিটেনের এক তরুণী।

লন্ডনের বাসিন্দা মলি ওয়াটসন (২৭) মে মাসে সমাজমাধ্যমে বিজ্ঞাপন দেখে অল্প দামে কিনেছিলেন এক বাহারি অন্তর্বাস। দাম পড়েছিল মাত্র এক হাজার টাকা। জুলাই মাসে বোনের সাধ অনুষ্ঠানে নতুন সেই অন্তর্বাস পরে হাজির হয়েছিলেন তিনি। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই ঘটে গেল ভয়াবহ বিপত্তি।

অন্তর্বাস পরে কিছুক্ষণ যেতে না যেতেই মলির কোমর, উরু ও গোপনাঙ্গে শুরু হয় তীব্র জ্বালা। তাঁর কথায়, “মনে হচ্ছিল, অসংখ্য মৌমাছি যেন একসঙ্গে হুল ফোটাচ্ছে।” যন্ত্রণায় ছটফট করতে করতে তিনি শৌচাগারে গিয়ে পোশাক খুলতেই চমকে ওঠেন। দেখা যায়, অন্তর্বাসের ইলাস্টিক ব্যান্ড গলে গিয়ে রাবারের মতো ত্বকে আটকে গেছে।

পরিজনরা দ্রুত তাঁকে ভর্তি করেন লন্ডনের সেন্ট থমাস হাসপাতালে। চিকিৎসকেরা পরীক্ষা করে জানান, তাঁর নিম্নাঙ্গে ফার্স্ট ডিগ্রি এবং সেকেন্ড ডিগ্রি বার্ন হয়েছে। দীর্ঘ চিকিৎসা ও ব্যান্ডেজের পর ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠেন মলি। কয়েক সপ্তাহ অফিসে যাওয়া বন্ধ রেখে বাড়ি থেকেই কাজ করতে বাধ্য হন তিনি।

অভিযোগ জানাতে মলি যোগাযোগ করেন অন্তর্বাস প্রস্তুতকারী সংস্থার হেল্পলাইনে। কিন্তু সংস্থা প্রথমে দায় এড়াতে থাকে এবং ক্ষতিপূরণ হিসেবে মাত্র এক হাজার টাকা অফার করে। এতে ক্ষুব্ধ মলি সামাজিক মাধ্যমে লিখেন—
“আমি চাই না আপনাদের টাকা। তবে এতটুকু বলতে পারি, জীবনে আর কোনওদিন আপনাদের সংস্থার পোশাক কিনব না।”

এরপর নিজেই তদন্তে নেমে মলি যোগাযোগ করেন অন্যান্য ক্রেতাদের সঙ্গে। দেখা যায়, তাঁর মতো ভয়াবহ না হলেও অনেকেই অন্তর্বাস পরে চুলকানি ও জ্বালার সমস্যায় ভুগেছেন। আক্রান্তদের নিয়ে একটি ভিডিও তৈরি করে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন তিনি। মুহূর্তে ভাইরাল হয় ভিডিওটি।

অবশেষে জনমতের চাপে নতিস্বীকার করে অন্তর্বাস সংস্থা। প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়ে তারা ঘোষণা করে, “ওই পণ্য আর বাজারে বিক্রি করা হবে না।”

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Adblock Detected

Please Turn Off Your Ad Blocker.