ব্রহ্মপুত্রের বুক জুড়ে অচিরেই ঘটতে চলেছে এক ভূ-রাজনৈতিক খেল। চিন তৈরি করছে বিশ্বের বৃহত্তম বাঁধ, আর এই বাঁধের ছায়া ক্রমশ গাঢ় হচ্ছে ভারত ও বাংলাদেশের উপরে। শুখা মরসুমে নদীর প্রবাহ হঠাৎই প্রায় উধাও! ভারতের অভ্যন্তরীণ হিসাব বলছে, এক ধাক্কায় ৮৫ শতাংশ পর্যন্ত জল কমে যেতে পারে। আবার বর্ষার সময়ে বিপরীত চিত্র—অতিরিক্ত জল ছেড়ে দেওয়া হলে অরুণাচল প্রদেশ থেকে অসম, তীরবর্তী এলাকা তলিয়ে যেতে পারে ভয়াবহ বন্যায়। একদিকে খাদ্যশস্যের উৎপাদন ও জলনির্ভর শিল্পে ধস নামার সম্ভাবনা, অন্যদিকে প্রাণ ও সম্পত্তির অমূল্য ক্ষতির আশঙ্কা। তিব্বতে ইয়ারলুং জাংবো নদীর সেই বাঁকেই বাঁধ তৈরির এই সিদ্ধান্ত নিয়ে নয়াদিল্লিতে উদ্বেগ চরমে উঠেছে। যদিও প্রকাশ্যে সরকার নীরব, আন্তর্জাতিক মহলে চাপা গুঞ্জন শুরু হয়ে গেছে।
এই চাপ মোকাবিলার প্রস্তুতি নিয়েছে ভারতও। কূটনৈতিক আঁচে জবাব দিতে নয়, এবার ব্রহ্মপুত্রের জলে জবাব দিতে চাইছে নয়াদিল্লি। অরুণাচলে দেশের বৃহত্তম বাঁধ নির্মাণের খসড়া প্রায় প্রস্তুত। সূত্রের দাবি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দফতরে গত জুলাইতেই বিশেষ বৈঠক হয়েছে। এই বিশাল প্রকল্পে ১৪০০ কোটি কিউবিক মিটার জল আটকে রাখার ক্ষমতা থাকবে—যা দিয়ে শুখা মরসুমের ঘাটতি অনেকটাই মেটানো সম্ভব হবে বলে আশা। তবে এই পরিকল্পনার বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই সরব হয়েছে স্থানীয় মানুষ। অন্তত ১৬টি গ্রাম জলের তলায় চলে যেতে পারে, ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন এক লক্ষেরও বেশি। তাই কেন্দ্র ভাবছে বিশেষ পুনর্বাসন প্যাকেজের কথা। প্রশ্ন একটাই—চিনের বাঁধ যদি সত্যিই জল আটকায়, তবে ভারতের এই পাল্টা পদক্ষেপ কি ভবিষ্যতের জলের যুদ্ধের সূচনা করবে? Suspense এখন নদীর স্রোতের মতোই বয়ে চলেছে।







