কলকাতারাজ্য

গোল্ড মেডেলিস্টের সামনে ৬৯% নম্বরের তুরুপের তাস খেললেন TMCP নেতা

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য শান্তা দত্ত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন— ২৮শে অগস্ট, অর্থাৎ তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবসে কোনও পরীক্ষার তারিখ পরিবর্তন হবে না। এই সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর থেকেই কার্যত শাসকদলের নেতাদের সঙ্গে এক সংঘাত শুরু হয় তাঁর। শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু থেকে TMCP-র সাধারণ সম্পাদক অভিরূপ চক্রবর্তী— সকলেই একে একে আক্রমণ শানান শান্তাকে লক্ষ্য করে।

বিতর্ক আরও ঘনীভূত হয় যখন অভিরূপ প্রকাশ্যে উপাচার্যের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়েই প্রশ্ন তোলেন। উত্তরে শান্তা দত্ত নিজের বর্ণাঢ্য শিক্ষা ও কর্মজীবনের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। ফলে বিতর্ক স্রেফ পরীক্ষা সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে আটকে না থেকে পৌঁছে যায় সার্টিফিকেট আর মেধার তুলনায়। তবে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন— একজন পড়ুয়ার শিক্ষাগত যোগ্যতা ও এক জন অধ্যাপকের দীর্ঘ গবেষণা ও অভিজ্ঞতার মধ্যে আসলেই কি কোনও তুলনা টানা যায়?

শান্তা দত্তর যোগ্যতা

বর্তমানে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য।

উচ্চমাধ্যমিকে রাজ্যে দ্বিতীয় স্থান।

হোম সায়েন্সে স্নাতকে প্রথম হয়ে গোল্ড মেডেল অর্জন।

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে ফুড অ্যান্ড নিউট্রিশনে স্নাতকোত্তরেও প্রথম স্থান ও গোল্ড মেডেল।

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই পিএইচডি ডিগ্রি।

বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে মোট ৬টি মেডেল অর্জন।

দীর্ঘ অভিজ্ঞতা— ২ বার বিভাগের প্রধান, ৩ বার ডিন, ২০ বছর UG বোর্ড চেয়ারম্যান, ৩টি পিজি বোর্ডের দায়িত্ব, টানা ৮ বছর ICC বোর্ডে প্রিসাইডিং অফিসার।

শান্তা নিজেই সাক্ষাৎকারে বলেছেন, “এই বিশ্ববিদ্যালয়েরই হয়তো জীবিত একমাত্র মানুষ আমি, যার ঝুলিতে ৬টি মেডেল আছে। পড়াশোনা থেকে শুরু করে প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা— সব মিলিয়ে এই জায়গায় দাঁড়িয়ে আছি।”

অভিরূপ চক্রবর্তীর যোগ্যতা

বর্তমানে TMCP-র রাজ্য সম্পাদক।

ISC পরীক্ষায় ৬৯ শতাংশ।

স্নাতক: বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে ফিজিওলজি।

স্নাতকোত্তর: বালিগঞ্জ সায়েন্স কলেজ থেকে হিউম্যান রাইটস-এ ফার্স্ট ক্লাস।

বর্তমানে পিএইচডির আবেদনকারী।

বিতর্কের সূত্র

TMCP দাবি তোলে যে, প্রতিষ্ঠা দিবসের দিনে বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা না নেওয়াই উচিত। শিক্ষা দফতর থেকেও পরীক্ষার তারিখ পরিবর্তনের নির্দেশ আসে। কিন্তু সিন্ডিকেট বৈঠকে বিশ্ববিদ্যালয় সর্বসম্মতভাবে সিদ্ধান্ত নেয়— পরীক্ষার দিন আর বদলাবে না। কারণ প্রায় ৩০ হাজার ছাত্রছাত্রী ওই তারিখে প্রস্তুতি সেরে ফেলেছে। এই ঘোষণার পরই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান শিক্ষামন্ত্রী।

পরবর্তীতে TMCP নেতা অভিরূপ সোশ্যাল মিডিয়ায় উপাচার্যের বিরুদ্ধে কড়া ভাষায় আক্রমণ শানান। শুধু যোগ্যতা নিয়েই নয়, হুমকিও দেন তিনি। তাঁর কথায়, “এত বড় বেহায়া আমি জীবনে দেখিনি। শান্তাদেবী বেশি কথা বলবেন না। ২৮ অগস্টের পর জবাব দেব। ইঞ্চিতে-ইঞ্চিতে বুঝে নেব।”

অর্থাৎ, পরীক্ষা নিয়ে শুরু হওয়া বিবাদ এখন দাঁড়িয়েছে এক প্রাক্তন টপার ও বর্তমান VC বনাম এক ছাত্রনেতার যোগ্যতার লড়াইয়ে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Adblock Detected

Please Turn Off Your Ad Blocker.