পশ্চিমবঙ্গ বিজেপিতে এবার নতুন উদ্যোগ। সরাসরি কর্মীদের সঙ্গে কথা বলার জন্য শমীক ভট্টাচার্য চালু করতে চলেছেন একটি বিশেষ কর্মসূচি যার নাম দেওয়া হয়েছে কার্যকর্তা বন্ধুদের দরবার । দলের যে কোনও কর্মী বা সমর্থক নিজের অভিযোগ, সমস্যার কথা কিংবা প্রস্তাব সরাসরি সভাপতির কাছে তুলে ধরতে পারবেন।
বিজেপির অন্দরে দীর্ঘদিন ধরেই অসন্তোষ, পদ বণ্টন নিয়ে বিতর্ক ও ক্ষোভ প্রকাশ্যে আসতে দেখা গিয়েছে। অনেক সময় জেলা বা মণ্ডল স্তরের নেতাদের অভিযোগ রাজ্যস্তরে সহজেই পৌঁছোলেও, সাধারণ কর্মীদের বক্তব্য নেতৃত্বের কাছে পৌঁছনোর পথ বন্ধ থাকত। সেই পরিস্থিতি পাল্টাতে চাইছেন শমীক। তবে এই উদ্যোগ শুরু হওয়ার নির্দিষ্ট দিন এখনও ঠিক হয়নি। দলের মহল থেকে জানা গিয়েছে, সম্ভবত সপ্তাহে একদিন মুরলীধর সেন লেনের দফতরে বসবেন সভাপতি। সোমবার দিনটিকে আপাতত সম্ভাব্য সময় হিসেবে ভাবা হচ্ছে।
সূত্রের খবর, দু’টি কারণে বিলম্ব হচ্ছে। প্রথমত, সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরেও শমীক এখনও নতুন রাজ্য কমিটি ঘোষণা করেননি। পুরনো কমিটিকেই আপাতত সঙ্গে নিয়ে কাজ চালাচ্ছেন। দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, নতুন সভাপতি দায়িত্ব নেওয়ার পর নিজের টিম তৈরি করবেন। একাধিক সাংগঠনিক সমস্যার সমাধানও ওই টিমের মাধ্যমেই করতে হবে। দ্বিতীয়ত, বর্তমানে মুরলীধর সেন লেনের দফতরে সংস্কারকাজ চলছে। কাজ শেষ হলে তবেই ‘ দরবার ‘এর সূচি স্থির হবে।
অনেকে প্রশ্ন তুলেছিলেন, কেন এই উদ্যোগ সেক্টর ফাইভের দফতরে নয়? দলের মুখপাত্র দেবজিৎ সরকারের ব্যাখ্যা, দূরদূরান্তের কর্মীদের কাছে সল্টলেক পৌঁছনো কঠিন। কিন্তু শিয়ালদহ-হাওড়া থেকে মুরলীধর সেন লেন যাতায়াত সহজ। উপরন্তু, ওই দফতরের সঙ্গে কর্মীদের আবেগও জড়ানো।
এছাড়া দলের অন্দরে শোনা যাচ্ছে, সভাপতির উদ্যোগে দফতরের লোহার গ্রিল-গেটও সরিয়ে দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। প্রায় তিন বছর আগে নিরাপত্তার কারণে দোতলায় ওঠার সিঁড়ি গ্রিল ও লোহার দরজায় ঘেরা হয়েছিল। এতে কর্মীদের একাংশ ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েছিলেন। শমীকের চিন্তা দলের সঙ্গে কর্মীদের সংযোগ আরও সহজ ও খোলামেলা করা। সব মিলিয়ে, ‘ কর্মী দরবার ‘ শুরু হলে কর্মীদের সঙ্গে নেতৃত্বের সরাসরি সংযোগে নতুন দিগন্ত খুলতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।







