কলকাতা হাইকোর্টে শুক্রবার বিধানসভা নিরাপত্তা ইস্যুতে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করলেন বিচারপতি অমৃতা সিনহা। তিনি স্পষ্ট জানান, বিধানসভার অধ্যক্ষকে সকল সদস্যকে সমানভাবে দেখতে হবে। কোনও ভেদাভেদ চলবে না। নিরাপত্তা কিংবা বিশেষ সুবিধার ক্ষেত্রে আলাদা আইন প্রযোজ্য হতে পারে না।
এই মামলাটি করেছিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর অভিযোগ, বিধানসভায় বিরোধী দলের বিধায়কদের নিরাপত্তা সীমিত করে দেওয়া হচ্ছে, অথচ শাসক দলের বিধায়ক ও মন্ত্রীদের জন্য আলাদা বন্দোবস্ত রাখা হয়েছে। আদালতে তাঁর আইনজীবীর দাবি ছিল, বিধানসভার ভেতরে কেন্দ্রীয় বাহিনী ঢোকার নিয়ম না থাকলেও শাসক দলের ক্ষেত্রে আলাদা ছাড় দেওয়া হচ্ছে। অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্তের জবাবে জানান, বিধানসভার নিয়মে মন্ত্রী ও বিধায়কদের জন্য আলাদা কোনও ধারা নেই। সাংসদের মতো এখানেও একই নিয়ম কার্যকর। মাঝে মধ্যে কিছু বিশেষ ঘটনা ঘটলেও তার ভিত্তিতে নতুন নিয়ম তৈরি করা যায় না।
তবে শুভেন্দু অধিকারীর পক্ষের সিনিয়র আইনজীবী বিল্লদল ভট্টাচার্য পাল্টা যুক্তি দেন, বিধানসভার সেক্রেটারিই জানিয়েছেন যে কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনী বিধানসভায় প্রবেশ করতে পারবেন না। এদিন আদালতের পর্যবেক্ষণ স্পষ্ট করেছে—বিধানসভায় নিরাপত্তা প্রশ্নে কোনও রাজনৈতিক বিভাজন চলবে না। এখন নজর থাকবে, অধ্যক্ষ কীভাবে হাইকোর্টের এই নির্দেশ কার্যকর করেন।
এ প্রসঙ্গে বিচারপতি অমৃতা সিনহা জানিয়েছেন, ‘প্রত্যেক বিধায়কই সমান। অধ্যক্ষের দায়িত্ব হল তাঁদের একই দৃষ্টিতে দেখা। নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে ভেদাভেদ চলতে পারে না। নিয়ম অনুযায়ী বুলেটিন প্রকাশ করতে হবে। একবার আইন যা স্থির হয়েছে, তা সব সদস্যের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।’







