রুশ তেল নিয়ে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সংঘাতের মাঝেই বড় সিদ্ধান্ত নিল আদানি গোষ্ঠী। জানা গেছে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU), আমেরিকা ও ব্রিটেনের কালো তালিকাভুক্ত ‘নোবেল ওয়াকর’ নামের রুশ তৈলবাহী জাহাজকে প্রবেশের অনুমতি দিল না গুজরাটের মুন্দ্রা বন্দর। ফলে প্রায় ১০ লক্ষ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল নিয়ে গতিপথ বদলাতে বাধ্য হল জাহাজটি।
মঙ্গলবার ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য বৈঠকের মাঝেই এই ঘটনা ঘটায় কূটনৈতিক অন্দরে শোরগোল শুরু হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে— তবে কি সরকারের অঙ্গুলিহেলনেই আদানিদের এই সিদ্ধান্ত? নাকি ব্যবসায়িক দায়বদ্ধতার জেরে এমন পদক্ষেপ?
কালো তালিকার জাহাজে নিষেধাজ্ঞা
গত সপ্তাহেই আদানি গ্রুপ ঘোষণা করেছিল, তাদের নিয়ন্ত্রিত ১৪টি বন্দরে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, আমেরিকা ও ব্রিটেনের নিষিদ্ধ তালিকাভুক্ত কোনও জাহাজ ঢুকতে পারবে না। সেই নিয়মের জেরেই মুন্দ্রায় প্রবেশ আটকে দেওয়া হয়েছে ‘নোবেল ওয়াকর’-কে। কেবল এই জাহাজই নয়, একই ভাগ্য বরণ করতে হয়েছে আরও একটি সুয়েজম্যাক্স ট্যাঙ্কার ‘স্পার্টান’-কে। সেটিতেও রয়েছে প্রায় ১০ লক্ষ ব্যারেল রুশ তেল।
রুশ তেল আমদানি নিয়ে দ্বন্দ্ব
২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই রাশিয়ার উপর পশ্চিমী নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও তেল আমদানিতে বড়সড় বৃদ্ধি করেছে ভারত। কেন্দ্র আগেই জানিয়েছে, মার্কিন চাপ বা শুল্কবৃদ্ধি সত্ত্বেও রুশ তেল আমদানি বন্ধ করা হবে না। তবে এবার বেসরকারি উদ্যোগে পরিচালিত বন্দর কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্ত কেন্দ্রের নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কিনা, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা।
আমেরিকার সঙ্গে আলোচনার প্রেক্ষাপট
ঠিক এই সময়েই দিল্লি ও ওয়াশিংটনের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে বৈঠক বসেছে। ফলে আদানি বন্দরের পদক্ষেপ কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও নতুন প্রশ্ন ছুড়ে দিচ্ছে। সরকারের তরফে বা আদানি গ্রুপের পক্ষ থেকে এ নিয়ে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।







