রাশিয়া থেকে তেল আমদানিকে ঘিরে ভারত ও আমেরিকার মধ্যে চলা টানাপোড়েনে নতুন মোড়। ব্লুমবার্গ-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ভারত রাশিয়া থেকে তেল কেনা কমাতে রাজি হলেও তার জন্য ওয়াশিংটনের কাছে কড়া শর্ত রেখেছে নয়া দিল্লি।
ভারতের পক্ষ থেকে আমেরিকা সফরে গিয়ে এক প্রতিনিধিদল মার্কিন কর্তাদের স্পষ্ট জানিয়েছে— যদি ভারত রাশিয়ার তেল আমদানি কমায়, তবে আমেরিকাকে ইরান ও ভেনেজুয়েলার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হবে। ভারতীয় কূটনীতিকদের যুক্তি, একসঙ্গে রাশিয়া, ইরান ও ভেনেজুয়েলার তেল থেকে দূরে সরে গেলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম হু হু করে বাড়বে।
রাশিয়ার ওপর নির্ভরতা কমলেও এখনও বড় সরবরাহকারী
ইউক্রেন যুদ্ধের পর থেকেই রাশিয়া ভারতকে বড় ছাড়ে তেল দিচ্ছে। জুলাই মাসেই রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা হয়েছে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৬৯ ডলারে। একই সময়ে সৌদি আরবের তেলের দাম ছিল ৭৭.৫ ডলার এবং আমেরিকার ৭৪.২ ডলার। ফলে খরচ বাঁচাতে ভারতীয় তেল সংস্থাগুলো রাশিয়ার তেলের দিকেই ঝুঁকেছে। যদিও আমেরিকা এর জেরে ভারতের উপর ২৫% অতিরিক্ত শুল্ক বসিয়েছিল, তবুও রাশিয়ার আমদানি চলতে থেকেছে।
ভারত তার প্রায় ৯০% জ্বালানির চাহিদা আমদানি করে পূরণ করে। সস্তা বিকল্প পেতে ভারত চাইছে ইরান ও ভেনেজুয়েলার তেলের দিকে ফিরতে। কিন্তু মার্কিন নিষেধাজ্ঞা বড় বাধা। ২০১৯ সালে ভারত ইরান থেকে তেল কেনা বন্ধ করে দেয়। একইভাবে চলতি বছরেই রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ ভেনেজুয়েলা থেকে তেল কেনা বন্ধ করেছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যের তেল তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি দামি। ফলে আমেরিকা যদি ভারতের শর্ত মানে, তবে রাশিয়ার উপর নির্ভরতা কমিয়ে নতুন উৎসে সস্তায় জ্বালানি সংগ্রহের সুযোগ মিলবে। অন্যদিকে, নিষেধাজ্ঞা অটুট থাকলে ভারতের হাতে বিকল্প সীমিত থেকে যাবে।
এ বিষয়ে ভারত ও আমেরিকার বাণিজ্য ও তেল মন্ত্রণালয় কোনো মন্তব্য করেনি।







