রবিবার ভারত-পাকিস্তান ফাইনাল। মাঠের বাইরের লড়াইয়ে ভারত দু’বার সহজে জিতলেও, মাঠের বাইরের উত্তাপ কিন্তু কমার নাম নেই। ভারত যদি এশিয়া কাপ চ্যাম্পিয়ন হয়, তবে ট্রফি বিতরণী অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে নতুন বিতর্কের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এসিসি) প্রধান হিসেবে ট্রফি তুলে দেবেন পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চেয়ারম্যান মহসিন নকভি। এই পরিস্থিতিতে তাঁর হাত থেকে সূর্যকুমারদের ট্রফি গ্রহণ করা বা না-করা — উভয় বিষয়ই এখন দুই দেশের কাছেই ‘মর্যাদার লড়াই’। সাম্প্রতিক বিতর্ক ও উত্তেজনার আবহে এসিসি-র নমনীয় হওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। পাকিস্তান জিতলে নকভি ট্রফি দেবেন, যা তাদের দ্বিগুণ জয়। ভারত চ্যাম্পিয়ন হলেও ট্রফি দিতে উঠবেন সেই নকভিই।
এখন প্রশ্ন হলো, এই কঠিন পরিস্থিতিতে বিসিসিআই কী করবে? এখনও পর্যন্ত তারা আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। তবে পিটিআই সূত্রের খবর, এসিসি চেয়ারম্যান হিসেবে নকভি মঞ্চে আসবেনই এবং ট্রফি তিনিই দেবেন। যদিও এর আগে এমনও খবর এসেছিল যে ভারত ফাইনালে গেলে খেলোয়াড়রা নকভির সঙ্গে এক মঞ্চে উঠবে না। সেই তথ্য জানা গিয়েছিল এশিয়া কাপে প্রথম ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের পর। তারপর দুই দেশের তিন খেলোয়াড়ের শাস্তি নিয়ে জল আরও ঘোলা হয়েছে। নকভিকে দিয়ে ট্রফি দেওয়ানোকে অনেকেই পাকিস্তানের একটি কূটনৈতিক ‘চাল’ হিসেবে দেখছেন। ভারত ট্রফি গ্রহণ করলে একরকম বিতর্ক, আর প্রত্যাখ্যান করলে আন্তর্জাতিক মঞ্চে আরও বড় বিতর্ক।
এই পরিস্থিতিতে ভারতীয় বোর্ডের সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ। তারা কি নিয়মের বাধ্যবাধকতার কারণে নকভির হাত থেকে ট্রফি নেবে, নাকি পূর্বের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এক মঞ্চে না উঠে নিজেদের অবস্থান বজায় রাখবে? বিসিসিআইয়ের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই বলে দেবে, তারা এই পাক কর্তার ‘চাল’ কীভাবে মোকাবিলা করে। মাঠের বাইরে ভারত-পাক লড়াই থামার নাম নেই। তাই ক্রিকেট ভক্তরা এখন কেবল ম্যাচের ফলের দিকেই তাকিয়ে নেই, ট্রফি বিতরণী মঞ্চের দিকেও তাদের কৌতূহল তুঙ্গে। রবিবার ফাইনালের সমাপ্তি হয়তো মাঠের চেয়ে মাঠের বাইরের নতুন বিতর্কের জন্ম দেবে।







