আসামের বোড়োল্যান্ড টেরিটোরিয়াল কাউন্সিল (বিটিসি) নির্বাচনে ভরাডুবি হল বিজেপির। এককভাবে ২৮টি আসন জিতে পরিষ্কার সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেল এনডিএ শরিক বোডোল্যান্ড পিপলস ফ্রন্ট (বিপিএফ)। অন্যদিকে বিজেপি থেমে গেল মাত্র ৫ আসনে। ইউনাইটেড পিপলস পার্টি লিবারেল (ইউপিপিএল) জিতেছে ৭ আসনে। ৪০ আসনের বিটিসি-তে এবারের ফল বিজেপির জন্য অশনি সংকেত বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
২০২০ সালের বিটিসি ভোটে বিপিএফ পেয়েছিল ১৭ আসন, এবার সেখানে প্রায় দ্বিগুণ আসন জিতে অভূতপূর্ব উত্থান ঘটাল তারা। বিজেপি গতবার জিতেছিল ৯ আসনে, এবারে নামল ৫-এ। কংগ্রেস এবং গণ সুরক্ষা পার্টি একেবারেই খাতায় নাম তুলতে পারেনি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, উত্তর-পূর্বে বিজেপির অগ্রযাত্রায় এই ফল বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। কারণ, ২০১৬ সালে ক্ষমতায় আসার পর এই প্রথম এত বড়ো ধাক্কা খেল গেরুয়া শিবির। রাজ্যের রাজনীতিতে এই ফলাফলের প্রভাব পড়বে আগামী বিধানসভা ভোটেও।
যদিও মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা দাবি করেছেন, জনপ্রিয় গায়ক জুবিন গর্গ-এর আকস্মিক প্রয়াণও ভোটে প্রভাব ফেলেছে। তাঁর কথায়, বিজেপি সমস্ত শক্তি নিয়ে লড়লেও এই ফলাফল অপ্রত্যাশিত।
বিটিসি জয়ের পর ফের শিরোনামে উঠে এসেছেন বিপিএফ প্রধান হগরামা মোহিলারী। একসময়ের বোড়োল্যান্ড লিবারেশন টাইগার্স (বিএলটি) প্রধান ২০০৩ সালের বোড়ো চুক্তির পরে সক্রিয় রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। বিদ্রোহী থেকে রাজনীতিক, তাঁর যাত্রাপথকে কেন্দ্র করে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।
রাজনৈতিক মহল মনে করছে, বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই ভোট ছিল সেমিফাইনাল। সেখানে বিজেপির মুখ থুবড়ে পড়া আগামী বছরের লড়াইয়ের দিশা স্পষ্ট করল।







