সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে সোমবার রাজ্যের উচ্চশিক্ষা মহলে এল বড় পরিবর্তন। দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর অবশেষে ৮টি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থায়ী উপাচার্য নিয়োগের পথ খুলল। যদিও সব জট কাটেনি, তবু রাজ্যের শিক্ষা দপ্তর একে আংশিক স্বস্তি হিসেবেই দেখছে।
সবচেয়ে নজরকাড়া নিয়োগ কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে — যেখানে উপাচার্যের আসনে বসলেন রসায়নের অধ্যাপক আশুতোষ ঘোষ। আর এই নিয়োগের সঙ্গেই শেষ হল শান্তা দত্তের অধ্যায়। ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য হিসেবে শান্তা দত্তকে নিয়ে একাধিক বিতর্ক দানা বেঁধেছিল— কখনও পরীক্ষার সময়সূচি নিয়ে মতবিরোধ, কখনও রাজ্য সরকারের সঙ্গে সংঘাত। এমনকি, শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুও প্রকাশ্যে সমালোচনা করেছিলেন তাঁকে। সব মিলিয়ে শান্তার মেয়াদ ছিল সংক্ষিপ্ত কিন্তু ঘটনাবহুল।
অন্যদিকে, উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী উপাচার্য হিসেবে ফের জায়গা পেলেন ওম প্রকাশ মিশ্র। যদিও তাঁর নিয়োগ নিয়েও রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের আপত্তি ছিল, তবুও সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশেই নাম চূড়ান্ত হয়েছে বলে সূত্রের খবর। এক সময় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও, বর্তমানে ওম প্রকাশ নিজেকে সক্রিয় রাজনীতি থেকে দূরে রেখেছেন।
এদিন আরও কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থায়ী উপাচার্য ঘোষণা করা হয়—
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য
গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে আশিষ ভট্টাচার্য
কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে উদয় বন্দ্যোপাধ্যায়
রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্ণব সেন
সাধু রামচাঁদ মুর্মু বিশ্ববিদ্যালয়ে চন্দ্রদীপা ঘোষ
বিশ্ব বাংলা বিশ্ববিদ্যালয়ে আবু তালেব
তবে এখানেই শেষ নয়। রাজ্যের মোট ৩৬টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে এখনো ৭টি বিশ্ববিদ্যালয় স্থায়ী উপাচার্যহীন। তাদের নিয়োগ নিয়ে সিদ্ধান্ত হবে আগামী শুনানিতে।
অর্থাৎ, সুপ্রিম কোর্টের গ্রিন সিগন্যাল মিললেও নিয়োগপত্রে শেষমেশ সই করবেন রাজ্যপালই। তাই একাংশ শিক্ষাবিদের মতে, “জট কাটল বটে, কিন্তু পুরোপুরি নয়।”
তবুও শিক্ষামহলের মতে, বহুদিন পর অন্তত আংশিক স্বস্তি ফেরাল রাজ্যের উচ্চশিক্ষা দপ্তরে — যেখানে শুরু হচ্ছে নতুন অধ্যায়, আর শেষ হল শান্তার বিতর্কিত ইনিংস।







