আইপিএলের প্রথম ম্যাচের পরই আবারও বিতর্কের কেন্দ্রে হরভজন সিং। ধারাভাষ্যকার হিসেবে এবারের আইপিএলে যুক্ত হয়েছেন তিনি। কিন্তু ম্যাচ শেষ হতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র সমালোচনার মুখে পড়তে হয় প্রাক্তন ভারতীয় অফ-স্পিনারকে। ইংলিশ কমেন্ট্রি প্যানেলের বিশদ তথ্যভিত্তিক বিশ্লেষণ আর হিন্দি কমেন্ট্রির বিনোদনমূলক উপস্থাপনার তুলনা টেনে শুরু হয় বিতর্ক।
ঘটনার সূত্রপাত রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু-সানরাইজার্স হায়দরাবাদ ম্যাচে। ইংলিশ কমেন্ট্রি বক্সে ইয়ান বিশপ তুলে ধরেছিলেন হায়দরাবাদের তরুণ তারকা অনিকেত ভার্মার অজানা জীবনের গল্প—মাত্র তিন বছর বয়সে মাকে হারানো, কম আয়ের মধ্যেও কাকার ত্যাগ, মধ্যপ্রদেশ প্রিমিয়ার লিগে ৩০ বলে সেঞ্চুরি, এবং আইপিএলে আসার পথচলা। অনিকেতের ১৮ বলে ৪৩ রানের ইনিংসের মতোই তাঁর জীবনের গল্পও ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বজুড়ে।
এই প্রসঙ্গেই সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয় প্রশ্ন—হিন্দি কমেন্ট্রি প্যানেল কি পর্যাপ্ত রিসার্চ করে? নাকি শুধু কবিতা, শব্দখেলা এবং নিজের কেরিয়ার নিয়ে আলোচনা করতেই বেশি আগ্রহী? এক ব্যবহারকারী হরভজন, সহবাগ ও আকাশ চোপড়ার ছবি শেয়ার করে তাঁদের ‘জোকার’ বলে কটাক্ষ করেন। সেই পোস্টই হয়ে ওঠে তীব্র বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু।
হরভজনের প্রতিক্রিয়া মুহূর্তে ভাইরাল হয়ে যায়। তিনি লেখেন, “এদের মধ্যেই একজনকে বাবা বেছে নে।” পরে আরও একটি সমালোচনার জবাবে তিনি মন্তব্য করেন, “হাতি চলে বাজার, কুত্তা ভোঁকে হাজার।” নেটমাধ্যমে এই মন্তব্য ঘিরে ক্ষোভ উসকে ওঠে। অনেকেই দাবি করেন, একটি প্রকাশ্য প্ল্যাটফর্মে এই ধরনের ভাষা ব্যবহার শোভন নয়।
হরভজনের বক্তব্য সমর্থনও পেয়েছে কিছু অংশের কাছ থেকে। তাঁদের মতে, অযথা ট্রোলিংয়ের জবাব তিনি যথাযথভাবেই দিয়েছেন। কিন্তু অপর অংশের দাবি—ধারাভাষ্যকার হিসেবে দায়িত্ব অনেক বড়, তাই ব্যক্তিগত কটাক্ষের জবাব না দিয়ে নিজের কাজে মন দেওয়া উচিত।
উল্লেখ্য, এর আগেও বিতর্কে জড়িয়েছিলেন হরভজন। ২০২৫ সালে জোফ্রা আর্চারকে নিয়ে তাঁর একটি মন্তব্য বর্ণবিদ্বেষমূলক বলে সমালোচনা হয়েছিল। এরপর ফের নতুন বিতর্কে ছড়িয়ে পড়ল তাঁর নাম।
ক্রিকেটবিশ্বে এখন আলোচনার কেন্দ্রে—ইয়ান বিশপের তথ্যসমৃদ্ধ বিশ্লেষণ, নাকি হিন্দি কমেন্ট্রির বিনোদনকেন্দ্রিক উপস্থাপনা? সোশ্যাল মিডিয়া উত্তপ্ত। বিতর্ক থামার কোনও লক্ষণ নেই।






