নিজস্ব সংবাদদাতা, পূর্ব মেদিনীপুর : প্রথম দফার ভোটগ্রহণ পর্ব মিটে গেলেও রাজনৈতিক উত্তাপ কমার কোনও লক্ষণ নেই। উল্টে, নতুন করে বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে এল হলদিয়া। ইভিএম (EVM) সংরক্ষিত স্ট্রং রুমে হামলা ও জোরপূর্বক প্রবেশের অভিযোগ ঘিরে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে ২০৯ নম্বর হলদিয়া বিধানসভা কেন্দ্র চত্বর।
এই ঘটনায় সরাসরি বিজেপিকে কাঠগড়ায় তুলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। শাসক দলের অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে বিজেপি কর্মী-সমর্থক এবং বহিরাগত দুষ্কৃতীরা স্ট্রং রুমে ঢোকার চেষ্টা চালায়, যা নির্বাচনী বিধি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুতর লঙ্ঘন।
কী অভিযোগ উঠেছে?
তৃণমূল সূত্রে দাবি, ২৩ এপ্রিল হলদিয়া, মহিষাদল ও নন্দীগ্রাম কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ শেষে সমস্ত ইভিএম একটি নির্দিষ্ট স্ট্রং রুমে সুরক্ষিতভাবে রাখা হয়। কিন্তু ২৪ এপ্রিল গভীর রাতে বিজেপির একাংশ সমর্থক হিংসাত্মকভাবে সেই এলাকায় প্রবেশের চেষ্টা করে এবং নিরাপত্তা বলয় ভাঙার অভিযোগ ওঠে।
দলীয় অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, এই ঘটনা জনপ্রতিনিধিত্ব আইন ১৯৫১-এর ১২৮ ও ১৩৬ ধারার সরাসরি লঙ্ঘন। পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের ইভিএম ও ভিভিপ্যাট সংক্রান্ত কঠোর নির্দেশিকাকেও অমান্য করা হয়েছে বলে দাবি।
নির্বাচন কমিশনের কাছে তৃণমূলের চার দফা দাবি
নির্বাচন কমিশন-এর কাছে পাঠানো অভিযোগপত্রে তৃণমূল কংগ্রেস একাধিক কড়া পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছে—
বিজেপি ও সংশ্লিষ্ট নেতাদের বিরুদ্ধে শো-কজ নোটিশ জারি
স্ট্রং রুম এলাকা অবিলম্বে সিল করে ইভিএম, ভিভিপ্যাট ও সিসিটিভি ফুটেজের ফরেনসিক অডিট
ভারতীয় ন্যায় সংহিতা-এর একাধিক ধারায় এফআইআর দায়েরের নির্দেশ
অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা
‘গণতন্ত্রের ওপর আঘাত’, দাবি শাসক শিবিরের
তৃণমূলের অভিযোগ, এটি নিছক অনধিকার প্রবেশ নয়, বরং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপের সুপরিকল্পিত চেষ্টা। ঘটনার জেরে পূর্ব মেদিনীপুর জুড়ে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়েছে।
যদিও এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে এখনও পর্যন্ত বিজেপির তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
এখন নজর কমিশনের পদক্ষেপে
হলদিয়ার এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে চাপানউতোর শুরু হয়েছে। ভোট-পরবর্তী পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশন কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে, সেটাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।







