ফের আতঙ্ক ছড়াল ভাটপাড়ায়। একেবারে ভাটপাড়া থানার পাশেই বিস্ফোরণের ঘটনায় রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। মঙ্গলবার ভোরবেলা ভাটপাড়া পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ২ নম্বর গলিতে পরপর দু’টি বিকট বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে ওঠে গোটা অঞ্চল।
ঘটনাস্থল থানার একেবারে গা ঘেঁষে হওয়ায় সঙ্গে সঙ্গেই ছুটে আসে ভাটপাড়া থানার বিশাল পুলিশবাহিনী। গোটা এলাকা ঘিরে ফেলে শুরু হয় তদন্ত। যদিও এই বিস্ফোরণ নিয়ে উঠেছে নানা মত। ঘটেছে রাজনৈতিক তরজা।
ঘটনাস্থল ও পুলিশের ভূমিকা
প্রত্যক্ষদর্শীদের অনেকেই জানান, ভোরে হঠাৎ একের পর এক দু’টি বিকট আওয়াজে ঘুম ভেঙে যায় এলাকাবাসীর। প্রথমে তারা কিছু বুঝতে না পারলেও পরে এলাকায় ছুটে এসে ঘটনাস্থল ঘিরে ফেলে পুলিশ। গোটা গলি ঘুরে দেখা হয়। যদিও এখন পর্যন্ত কোনও হতাহতের খবর নেই।
ভাটপাড়া থানার পুলিশ জানিয়েছে, তারা ঘটনাস্থল থেকে নমুনা সংগ্রহ করেছে। প্রাথমিক তদন্তে বিস্ফোরণ ধামাকা জাতীয় কিছু থেকেই হয়েছে বলেই অনুমান। তবে সেটি বাজি না বোমা, তা ফরেনসিক রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত স্পষ্টভাবে বলা সম্ভব নয়।
রাজনৈতিক তরজা: তৃণমূল বনাম বিজেপি
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর।
ভাটপাড়া পৌরসভার উপপৌরপ্রধান তথা তৃণমূল নেতা দেবজ্যোতি ঘোষ বলেন—
“ওটা বোমা নয়, বাজি ফেটেছে বলেই মনে হচ্ছে। ভাটপাড়ায় বহুদিন ধরেই শান্তি রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আছে। পুলিশ তদন্ত করছে। বিভ্রান্তি ছড়াবেন না।”
তবে একেবারে ভিন্ন সুর বিজেপির। তাদের দাবি,
“ওই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বোমা মজুত করা হচ্ছে। থানার পাশেই এমন ঘটনা মানে পুলিশের নাকের ডগায় অস্ত্র মজুত চলছে! দুষ্কৃতীরা এলাকায় বন্দুক-বোমা নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে—আর পুলিশ কিছু বলছে না। সাধারণ মানুষ আতঙ্কে রয়েছেন।”
স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক
বিস্ফোরণের পর থেকেই স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়েছে। অনেকে বলেন, থানার পাশেই যদি এভাবে বিস্ফোরণ হয়, তাহলে তারা নিজেদের বাড়িতে কতটা নিরাপদ—সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।
তদন্তের অপেক্ষায় শহর
এই মুহূর্তে তদন্ত চালাচ্ছে ভাটপাড়া থানার পুলিশ। ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের ডেকে পাঠানো হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে খবর, এলাকায় দুষ্কৃতীদের গতিবিধি নিয়ে খোঁজ নিচ্ছে গোয়েন্দা বিভাগও।
বোমা না বাজি—তথ্যপ্রমাণেই মিলবে সত্যতা। তবে দিনের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গেই ফের আলোচনার কেন্দ্রে ভাটপাড়া, আর তাতেই রাজনৈতিক উত্তেজনার পারদ আরও চড়তে শুরু করেছে।







