বাংলাদেশের রাজনীতিতে বড়সড় মোড়। শারীরিক অসুস্থতা ও দীর্ঘদিনের নির্বাসনের পর জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে ফিরছেন বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টির (বিএনপি) চেয়ারপার্সন আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন বলে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করল তাঁর দল। এই ঘোষণার পরই দেশের রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোড়ন শুরু হয়েছে।
ফের ফেনীতে লড়াই:
দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আওয়াল মিন্টো বুধবার সাংবাদিক বৈঠকে জানান, “দলনেত্রী সুস্থ আছেন এবং নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত। তিনি ফেনী আসন থেকেই ভোটে দাঁড়াবেন।” ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকও সম্পন্ন হয়েছে বলে জানান মিন্টো।
রাজনীতিতে নয়া সমীকরণ:
গত বছর আগস্টে শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর থেকেই বিএনপির অন্দরে খালেদা জিয়ার সক্রিয় প্রত্যাবর্তনের ইঙ্গিত মিলছিল। ২০২৩ সালের মে মাসে লন্ডন থেকে দেশে ফেরেন খালেদা জিয়া। দীর্ঘদিন লিভার সিরোসিস, কিডনি ও হৃদরোগজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি। তবে চিকিৎসার পর ফের রাজনীতির ময়দানে নামার মতো স্বাস্থ্যে উন্নতি হয়েছে তাঁর।
তারেক রহমান ফিরবেন?
এদিকে লন্ডনে স্বেচ্ছা নির্বাসনে থাকা খালেদা জিয়ার ছেলে ও দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরার সম্ভাবনাও ঘনীভূত হচ্ছে। দলীয় সূত্রে নিশ্চিত না হলেও জল্পনা তুঙ্গে।
ফেব্রুয়ারিতে ভোট?
মিন্টো জানান, “আমাদের মতে ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহেই নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “বর্তমান দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং অন্তর্বর্তী সরকারের আইনি চ্যালেঞ্জ বিচার করলে, নির্বাচন ফেব্রুয়ারির আগেও হয়ে যেতে পারে।”
মুক্তির ইতিহাস:
দুর্নীতির মামলায় ২০১৮ পর্যন্ত জেলবন্দি ছিলেন খালেদা জিয়া। পরে করোনাকালে সাময়িক মুক্তি দেন শেখ হাসিনা সরকার। ২০২০ সালে শর্তসাপেক্ষে সাজা স্থগিত করা হয়। ২০২4 সালে হাসিনা সরকার পতনের পর প্রেসিডেন্ট মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু তাঁর মুক্তির নির্দেশ দেন। চলতি বছর মার্চে সুপ্রিম কোর্টও দুর্নীতি মামলায় নিম্ন আদালতের সাজা খারিজ করে দেয়।
বিশ্লেষণ:
বিশেষজ্ঞদের মতে, খালেদা জিয়ার প্রত্যাবর্তন শুধু প্রতীকী নয়, বরং দেশের রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণের ইঙ্গিত। একসময়ের দুই প্রভাবশালী নেত্রী শেখ হাসিনা বনাম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক দ্বৈরথ আবার মঞ্চে ফিরে আসতে পারে।







