নিজস্ব প্রতিনিধি, কোলাঘাটঃ
“৪জি নয়, ৫জি ফোন চাই!”— এই স্লোগানেই আজ কোলাঘাট আইসিডিএস অফিস চত্বরে আছড়ে পড়ল অঙ্গনওয়ারি কর্মীদের ক্ষোভ। পাঁশকুড়া-২ আইসিডিএস প্রজেক্টের প্রায় ২৩৮ জন কর্মী শুক্রবার সকালে রাস্তায় নেমে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিক্ষোভ দেখান। তাঁদের অভিযোগ, ১০ হাজার টাকায় ৪জি ফোন কেনার প্রস্তাব তাঁদের অপমানের সামিল, কারণ এখন সমস্ত কাজই মোবাইল নির্ভর, এবং পুরনো প্রযুক্তির ফোনে সেই কাজ করা কার্যত অসম্ভব।
এক আন্দোলনকারী ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন,
“দু’ বছর ধরে আমরা নিজেদের ফোনেই কাজ করছি। বাচ্চাদের অ্যাটেনডেন্স, মা-শিশুদের ফেস ভেরিফিকেশন, হোম ভিজিট— সব কিছু ফোনেই করতে হয়। এখন সেই কাজ ৪জি ফোনে হয় না। বাধ্য হয়েই নিজেদের পয়সায় ৫জি ফোন কিনতে হয়েছে।”
অন্যদিকে, বিক্ষোভকারীরা আরও অভিযোগ করেন, তাঁদের প্রতিদিনের মোবাইল রিচার্জ বাবদ মাত্র ১৬৬ টাকা দেওয়া হয়, যা একাধিক কেন্দ্রের দায়িত্ব সামলানোর ক্ষেত্রে অপর্যাপ্ত। তার উপর, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী চাকরি ছাড়লে বা অবসরে গেলে ফোনটি অফিসে জমা দিতে হবে— এই শর্তেও তাঁরা আপত্তি তুলেছেন।
অঙ্গনওয়ারি কর্মী সুমিতা গুছাইত বলেন,
“ওরা বলছে অবসর নিলেই ফোন জমা দিতে হবে। আমরা এই শর্ত মেনে নিতে পারব না। আমরা তো এতদিন নিজেদের ফোনেই কাজ করেছি, নিজেদের সিম ব্যবহার করেছি। এখন নতুন ফোনে কোন সিম লাগবে, রিচার্জের দায়িত্ব কে নেবে?”
বিক্ষোভস্থলে কর্মীদের একটাই দাবি— ‘৫জি ফোন এবং পর্যাপ্ত রিচার্জ ভাতা’। তাঁদের বক্তব্য, ৪জি ফোনে ফেস ভেরিফিকেশন অ্যাপ কাজ করে না, ফলে প্রশাসনিক নির্দেশ মানতে গেলেই কাজ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।
তবে এই ব্যাপারে এখনও পর্যন্ত প্রশাসনের কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। কোলাঘাট আইসিডিএস অফিসের পক্ষ থেকেও কোনও সরকারি বিবৃতি জারি করা হয়নি।
অঙ্গনওয়ারি কর্মীদের এই বিক্ষোভে স্পষ্ট— সরকারি প্রযুক্তি ও ভাতার ফারাকেই মাঠে নেমেছেন তাঁরা। তাঁদের দাবি, “আমরা শিশুদের ভবিষ্যৎ গড়ছি, অথচ নিজেদের কাজের জন্য ন্যায্য প্রযুক্তিই পাচ্ছি না।”







