দুই ম্যাচে পরপর শূন্য, সমালোচনার পাহাড়, প্রশ্নচিহ্ন কেরিয়ারের ভবিষ্যৎ নিয়ে—সব কিছু মিলিয়ে বিরাট কোহলির ওপর চাপটা ছিল প্রবল। কিন্তু ইতিহাস সাক্ষী, চাপই যখন চূড়ান্ত, তখনই কোহলি সবচেয়ে বিপজ্জনক। সিডনিতে অজিদের মাটিতে সেই সত্যই যেন আবার ফিরে এল। রান তাড়ার পরিস্থিতিতে ব্যাট হাতে এলেন, আর এক মুহূর্তে যেন বদলে গেল ছবিটা। ৮১ বলে ৭৪ রানের ইনিংসে তিনি প্রমাণ করলেন, ফর্ম আসে যায়, কিন্তু ক্লাস চিরন্তন।
রোহিত শর্মার সঙ্গে ১৬৮ রানের দুর্দান্ত জুটি গড়ে ভারতকে এনে দিলেন জয়। শুরুতে সতর্ক, কিন্তু সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ধীরে ধীরে বাড়ালেন গতি। পুল, কাভার ড্রাইভ, স্ট্রেট অন—প্রতিটি শটে যেন ফিরল পুরনো আগ্রাসী কোহলি। ম্যাচ শেষে তিনি বললেন, “এই খেলা প্রতিটা মুহূর্তে শেখায়। কঠিন সময়ই আমার মধ্যে থেকে সেরাটা বের করে আনে।” কথাগুলোয় মিশে ছিল অভিজ্ঞতা, আত্মবিশ্বাস আর যোদ্ধার হাসি।
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এটাই হয়তো শেষবার একসঙ্গে দেখা গেল ‘রো-কো’ যুগলকে। দর্শকরা দাঁড়িয়ে অভিনন্দন জানালেন তাঁদের। কোহলি কৃতজ্ঞ কণ্ঠে বললেন, “এই দেশটায় খেলতে আমরা সবসময় ভালোবাসি। এখানে আমাদের কেরিয়ারের সেরা ক্রিকেটটা খেলেছি।” স্টেডিয়ামে করতালির গর্জনে মিশে গেল এক যুগল কিংবদন্তির সম্মান।
২০১৩ সালে শুরু হওয়া রোহিত-বিরাটের সেই সাফল্যের গল্প যেন পূর্ণতা পেল সিডনিতে। কোহলি নিজেই বললেন, “আমরা জানি, একসঙ্গে যদি ২০ ওভার খেলি, জয় প্রায় নিশ্চিত।” শনিবার ঠিক সেটাই করলেন তাঁরা—একটি ইনিংস নয়, বরং ইতিহাসের পাতা আবারও লিখলেন দু’জন মিলে, প্রমাণ করলেন—বয়স নয়, ইচ্ছাই শেষ কথা।







