বিদেশ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে মা হলেন এক মহিলা! চিকিৎসা জগতে নতুন ইতিহাস রচনা করল AI প্রযুক্তি।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এক দম্পতির জীবনে ঘটেছে অবিশ্বাস্য এক অলৌকিক ঘটনা। প্রায় ১৯ বছর ধরে ব্যর্থ চেষ্টার পর অবশেষে সন্তান এসেছে তাঁদের কোলে — আর এর পিছনে রয়েছে এক যুগান্তকারী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি, যার নাম ‘স্পার্ম ট্র্যাকিং অ্যান্ড রিকভারি’ (Sperm Tracking and Recovery – STAR)।

১৯ বছরের সংগ্রাম, ১৫ বার IVF ব্যর্থ

৩৯ বছর বয়সী পুরুষ এবং ৩৭ বছর বয়সী এক মহিলা বছরের পর বছর ধরে মা-বাবা হওয়ার স্বপ্ন দেখলেও চিকিৎসকরা জানিয়ে দিয়েছিলেন, তাঁদের পক্ষে তা সম্ভব নয়। ১৫ বার ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন (IVF) চেষ্টাও ব্যর্থ হয়। পুরুষটি অ্যাজুস্পার্মিয়া নামক রোগে আক্রান্ত ছিলেন — এমন এক অবস্থা যেখানে বীর্যে কোনও শুক্রাণু পাওয়া যায় না। ফলে প্রাকৃতিকভাবে সন্তান ধারণ অসম্ভব ছিল।

আশার আলো দেখাল AI

এই দম্পতির ভাগ্য বদলে যায় যখন তাঁরা কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটি ফার্টিলিটি সেন্টারের গবেষকদের তৈরি STAR প্রযুক্তি ব্যবহার করেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-নির্ভর এই টুলটি বীর্যের মধ্যে লুকিয়ে থাকা জীবিত শুক্রাণুগুলিকে খুঁজে বের করতে সক্ষম।

কীভাবে কাজ করে STAR প্রযুক্তি?

STAR একটি অত্যাধুনিক মাইক্রোফ্লুইড চিপ ও রোবোটিক সিস্টেম।

এটি হাই-স্পিড ইমেজিং ব্যবহার করে লক্ষ লক্ষ মাইক্রোস্কপিক ছবি তোলে।

এরপর মেশিন লার্নিং অ্যালগরিদম প্রতিটি ছবি বিশ্লেষণ করে জীবিত শুক্রাণুগুলিকে সনাক্ত করে।

প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ হয় খুব দ্রুত, এবং শুক্রাণুর কোনও ক্ষতি হয় না।

এইভাবে, চিকিৎসকেরা ওই দম্পতির বীর্যে লুকিয়ে থাকা কার্যকর শুক্রাণু খুঁজে পান — যা ব্যবহার করেই সফলভাবে গর্ভধারণ সম্ভব হয়।

চিকিৎসা জগতে নতুন দিগন্ত

বিশেষজ্ঞদের মতে, STAR প্রযুক্তি বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসায় এক বিপ্লবী মোড় এনে দিয়েছে। বহু দম্পতি, যারা এতদিন আশা হারিয়ে ফেলেছিলেন, এখন নতুন করে আশা দেখছেন।

চিকিৎসা বিজ্ঞানের ইতিহাসে এই ঘটনা প্রমাণ করল — মানুষের অসম্ভবকে সম্ভব করে তুলছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Adblock Detected

Please Turn Off Your Ad Blocker.