দেশ

বিল নিয়ে সিদ্ধান্তে দেরি চলবে না, দায়িত্ব স্পষ্ট করল সুপ্রিম কোর্ট

বিল সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে দীর্ঘদিনের জট অবশেষে নিরসনের পথে। বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের সাংবিধানিক বেঞ্চের স্পষ্ট দাবি রাজ্যপাল বা রাষ্ট্রপতি কোনও বিল অনির্দিষ্টকাল ধরে আটকে রাখতে পারেন না। দায়িত্ব পালনে দীর্ঘস্থায়ী নিষ্ক্রিয়তা থাকলে আদালত হস্তক্ষেপ করতে পারে।

প্রধান বিচারপতি বিআর গবইয়ের নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের বেঞ্চের রায়ের স্পষ্ট নির্দেশ, বিল বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া সাংবিধানিক কর্তব্য। তবে সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার নির্দিষ্ট সময়সীমা আদালত নির্ধারণ করতে পারে না। শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে বিধানসভা থেকে অনুমোদিত বিল রাজ্যপালের কাছে গেলে তিনি হয় সই করবেন, নাহলে রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠাবেন অথবা সেই বিল ফেরত পাঠাবেন। তবে কোনও কারণ ছাড়া মাসের পর মাস বিল নিজের দফতরে ফেলে রাখার অধিকার তাঁর নেই। বেঞ্চ স্পষ্ট করে বলে, এই তিনটি পথের বাইরে আর কোনও সাংবিধানিক বিকল্প নেই।

বিল রাষ্ট্রপতির কাছে গেলে তাঁর সামনে দুটি বিকল্প থাকছে সই করা অথবা ফিরিয়ে দেওয়া। সংবিধানে সময়সীমা না থাকলেও, আদালতের ভাষায় “দীর্ঘস্থায়ী নীরবতা” সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে ব্যত্যয় সৃষ্টি করে। তাই প্রেসিডেন্ট ও গভর্নরের কাজের উপর সাধারণ হস্তক্ষেপ না হলেও, অস্বাভাবিক দেরির ক্ষেত্রে আদালত নির্দেশ দিতে পারে।

তামিলনাড়ু সরকারের দায়ের করা মামলাও নির্দেশ দিয়েছে গত ১২ই এপ্রিল সুপ্রিম কোর্ট রাজ্যপাল ও রাষ্ট্রপতিকে তিন মাসের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা বলেছিল। এই নির্দেশই নতুন করে প্রশ্ন তুলেছিল। এই প্রেক্ষিতেই রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু বিষয়টি স্পষ্ট করতে সুপ্রিম কোর্টের কাছে ১৪টি প্রশ্ন পাঠান। সেই প্রশ্নেরই উত্তর দিতে গত জুলাই থেকে চলছে ‘প্রেসিডেন্সিয়াল রেফারেন্স’ মামলার শুনানি। শুনানিতে কেন্দ্রীয় সরকার জানায়, সংবিধানে রাজ্যপালের সিদ্ধান্ত গ্রহণে সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার কোনও বিধান নেই। তাই আদালতের আগের নির্দেশের সঙ্গে তারা একমত নয়। উপরাষ্ট্রপতিও একই মত প্রকাশ করেন।

সব মতামত বিচার করে শীর্ষ আদালত এদিন জানায় সময়সীমা কার্যকারিতা আনতে পারে বটে, তবে তা চাপিয়ে দেওয়া আদালতের ক্ষমতার মধ্যে পরে না। চলমান বিতর্কে সুপ্রিম কোর্টের চূড়ান্ত মত রাষ্ট্রপতি ও রাজ্যপাল বিচারবিভাগের সরাসরি নিয়ন্ত্রণাধীন নয়। তবে সাংবিধানিক দায়িত্ব এড়িয়ে গিয়ে বিল লম্বা সময় ঝুলিয়ে রাখার সুযোগ তাঁদের নেই। নিষ্ক্রিয়তা দেখা গেলে আদালত ‘সীমিত’ নির্দেশ দিতে পারে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Adblock Detected

Please Turn Off Your Ad Blocker.