কলকাতা পুরসভার অধিবেশন বুধবার কার্যত পরিণত হল রাজনৈতিক মঞ্চে। বাঙালি অস্মিতা, বাংলার সংস্কৃতি ও বিজেপির বিরুদ্ধে “বাংলা–বিদ্বেষী” অভিযোগকে কেন্দ্র করে শাসক ও বিরোধী কাউন্সিলরদের মধ্যে তীব্র বাগ্বিতণ্ডা, চিৎকার–চেঁচামেচিতে উত্তাল হয়ে ওঠে অধিবেশন কক্ষ।
দিনটি ছিল ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর জন্মবার্ষিকী। সেই সূত্রেই রেড রোডের নাম পরিবর্তন করে ‘কার্নিভাল লেন’ করার প্রস্তাব তোলেন তৃণমূলের ৯৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তপন দাশগুপ্ত। এরপরই আলোচনার মাঝে তৃণমূল কাউন্সিলর অরূপ চক্রবর্তী মধ্যপ্রদেশ সরকারের এক মন্ত্রীর রাজা রামমোহন রায়কে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য এবং ‘বাংলাবিদ্বেষ’-এর প্রসঙ্গ ওঠান। তিনি দাবি করেন, পুরসভার ম্যাগাজিন পুরশ্রী-তে স্বাধীনতা আন্দোলনে “যাঁরা বেইমানি করেছিলেন” এবং জনসংঘ–সংঘ পরিবারের “স্বাধীনতা আটকানোর ভূমিকা” তুলে ধরা প্রয়োজন।
তার প্রতিবাদে দাঁড়ান বিজেপির ৫০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সজল ঘোষ। তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অতীতের কয়েকটি মন্তব্য তালিকা ধরে উল্লেখ করা মাত্রই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। শাসক ও বিরোধী পক্ষের সদস্যরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন, শুরু হয় তুমুল হট্টগোল।
পরিস্থিতি সামাল দিতে উঠে দাঁড়ান মেয়র ফিরহাদ হাকিম। তিনি অরূপ চক্রবর্তীর বক্তব্যকে সমর্থন করে বিজেপিকে “বাংলা–বিদ্বেষী” বলে আক্রমণ করেন। দুই পক্ষের তর্ক আরও তীব্র হয়। উত্তেজনার মধ্যেই চেয়ারপার্সন মালা রায় সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন বিজেপি কাউন্সিলর মীনা দেবী পুরোহিতকে—১৫ মিনিট ধরে বাংলায় বাংলা সংস্কৃতি নিয়ে কথা বলার জন্য। এর পরেই বিজেপি সদস্যরা অভিযোগ তোলেন, চেয়ারপার্সন তাঁদের সহকর্মীকে অপমান করেছেন।
পুরসভা অধিবেশন তখন কার্যত স্থগিতাবস্থায়—চিৎকার, বিক্ষোভে ঢেকে যায় নিয়মিত আলোচনার সব পর্ব। পরে সজল ঘোষ সাংবাদিকদের বলেন, “আমি আজকের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। চেয়ারপার্সন ঐতিহাসিক চেয়ারে বসে কাউন্সিলরকে অপমান করেছেন।” পাল্টা তৃণমূল কাউন্সিলর অরূপ চক্রবর্তী দাবি করেন, “বিজেপি আসলে বাংলা–বিদ্বেষী বলেই আমাদের বক্তব্যে এভাবে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে।”
বাঙালি পরিচয়–রাজনীতিকে ঘিরে এমন হিংস্র বিতর্কে পুরসভা অধিবেশন যে দিনভর স্তব্ধ হয়ে পড়ল, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।







