ক্রাইমরাজ্য

পরিবারের সম্মান রক্ষায় চরম নৃশংসতা:অমতে বিয়ে, প্রতিশোধ নিতে গলা কেটে খুন তরুণীকে, গ্রেপ্তার ১

নিজের পছন্দের মানুষকে জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নেওয়াই কাল হলো ১৭ বছর বয়সী এক তরুণীর জন্য। পারিবারিক সম্মানের অজুহাতে তাঁকে নির্মমভাবে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে স্বয়ং তাঁরই পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে। অভিযোগের তীর নিহত তরুণীর দাদা এবং কাকার দিকে। লোমহর্ষক এই ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশের তোলা ফতেহ রায় গ্রামে।

নিহত প্রীতি, গত সেপ্টেম্বর মাসে অভিষেক যাদব নামে এক যুবককে ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন। দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ককে পরিণতি দিতে তিনি পরিবারের অমতে এই পদক্ষেপ নেন। এরপর থেকে প্রীতি তাঁর শ্বশুরবাড়িতেই সুখে জীবন কাটাচ্ছিলেন, কিন্তু তাঁর এই সিদ্ধান্ত বাপের বাড়ির লোকজনের মধ্যে চরম আক্রোশ জন্ম দেয়।পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ১৬ নভেম্বর রাতে প্রীতিকে ফোন করে তাঁর বাপের বাড়িতে ডেকে পাঠানো হয়। অভিযোগ, সেখানে তাঁর কাকা অশোক যাদব এবং দাদা আর্য কুমার যাদব ওরফে পিন্টু মিলে নৃশংস ষড়যন্ত্র কার্যকর করেন।

প্রথমে একটি নিকটবর্তী স্কুলে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে গলা টিপে হত্যা করার পর, মৃত্যু নিশ্চিত করতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁর গলা কেটে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। হত্যার পর অপরাধের চিহ্ন মুছে ফেলার জন্য অত্যন্ত জঘন্য একটি কৌশল নেওয়া হয়। প্রীতির নিথর দেহটি টেনে নিয়ে গিয়ে চলন্ত ট্রেনের নিচে ফেলে দেওয়া হয়।১৮ নভেম্বর বাল্লিয়া এলাকা থেকে তরুণীর ক্ষতবিক্ষত দেহটি উদ্ধার হলে ঘটনার ভয়াবহতা সামনে আসে। তদন্তে নেমে পুলিশ ইতিমধ্যেই মূল অভিযুক্তদের মধ্যে একজন, দাদা আর্য কুমার যাদবকে গ্রেপ্তার করেছে। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্রও উদ্ধার হয়েছে। তবে কাকা অশোক যাদব এখনও পলাতক, যাঁর খোঁজে পুলিশি তল্লাশি চলছে। এই ঘটনা প্রমাণ করল, একবিংশ শতাব্দীতেও ভালোবাসার জন্য পরিবারকেই ভয়ঙ্কর শত্রু হিসেবে পেতে হচ্ছে বহু মেয়েকে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Adblock Detected

Please Turn Off Your Ad Blocker.