ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কূটনৈতিক উদ্যোগ এখন বড় বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ট্রাম্প দাবি করছেন যে তাঁর তৈরি শান্তি পরিকল্পনায় রাশিয়া এখন নমনীয় এবং ইউক্রেনও চুক্তির ‘সারমর্ম’ সমর্থন করায় আলোচনা সঠিক পথেই এগোচ্ছে। এরই মধ্যে ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ আগামী সপ্তাহে মস্কো সফরে যাচ্ছেন বলে খবর। তিনি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে চূড়ান্ত আলোচনা করতে পারেন।
তবে, এই কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যেই একটি ফাঁস হওয়া টেলিফোন কথোপকথনের জেরে ট্রাম্পের শান্তি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে জানা যায়, উইটকফ এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনের সহকারী ইউরি উশাকভের মধ্যে হওয়া একটি কথোপকথন ফাঁস হয়েছে। অভিযোগ, উইটকফ নাকি রাশিয়াকে পরামর্শ দিয়েছিলেন—ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি হোয়াইট হাউসে আসার আগেই পুতিন যেন ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। উইটকফ এটাও পরামর্শ দিয়েছিলেন যে পুতিন যেন ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য শান্তি প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন। ফাঁস হওয়া এই ঘটনার পাশাপাশি রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানা গেছে, ট্রাম্পের মূল ২৮-দফা শান্তি পরিকল্পনাটি আসলে গত অক্টোবরে রাশিয়ার দেওয়া একটি নথির ভিত্তিতে তৈরি হয়েছিল। এই তথ্য সামনে আসার পর বিরোধীরা মনে করছেন, এই চুক্তি কেবল আগ্রাসী রাশিয়াকে পুরস্কৃত করবে। রাশিয়ার কূটনীতিক ইউরি উশাকভ অবশ্য এই ফাঁস হওয়া ঘটনাটিকে শান্তি আলোচনা ‘বানচালের চেষ্টা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
এই চুক্তি নিয়ে ট্রাম্পের নিজের দল রিপাবলিকান পার্টির মধ্যেই অসন্তোষ বাড়ছে। দলের সদস্যরা মনে করছেন, বিশেষ দূত উইটকফ ‘সম্পূর্ণভাবে রাশিয়ার পক্ষে’ কাজ করছেন। এমনকি রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান ডন বেকন সরাসরি উইটকফকে বরখাস্ত করার দাবি জানিয়েছেন। যদিও ট্রাম্পের দাবি, মূল পরিকল্পনাটি এখন পরিমার্জিত হয়েছে এবং ইউক্রেনও এতে সমর্থন দিয়েছে।
কূটনৈতিক স্তরে আলোচনার ঝড় উঠলেও, ইউক্রেনের ফ্রন্টলাইনে হামলা থামেনি। রাতের হামলায় ইউক্রেনের জাপোরিঝিয়া অঞ্চলে ১৯ জন আহত হয়েছেন এবং অন্যদিকে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় রাশিয়ার নোভোরোসিয়স্ক শহরেও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। ট্রাম্পের দূত মস্কো সফরের মাধ্যমে যুদ্ধ বন্ধের পথে কতটা এগোতে পারেন, এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা বিশ্ব।







