বিশ্ব

হিমালয় বাঁচাতে ভারত-চিনকে নিয়ে নতুন উদ্যোগের ডাক, রাষ্ট্রসংঘে বড় প্রস্তাব নেপালের

কলকাতা: জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছে হিমালয় অঞ্চলে। একের পর এক বন্যা, ভূমিধস ও হিমবাহ-সংক্রান্ত বিপর্যয়ের প্রেক্ষিতে এবার আন্তর্জাতিক মঞ্চে আঞ্চলিক সহযোগিতার প্রস্তাব রাখল নেপাল। রাষ্ট্রসংঘের ৮১তম সাধারণ সভায় ভাষণ দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ নেপাল, ভারত ও চিনের নেতৃত্বে একটি ‘Himalayan Climate Resilience Mechanism’ তৈরির প্রস্তাব দিয়েছেন।

শাহের প্রস্তাব অনুযায়ী, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে তিন দেশ জলবায়ু ও প্রাকৃতিক বিপর্যয় মোকাবিলায় নিজেদের মধ্যে তথ্য ও প্রযুক্তি ভাগ করে নিতে পারে। বিশেষ করে স্যাটেলাইট ডেটা আদানপ্রদান, ঝুঁকিপূর্ণ হিমবাহের হ্রদ পর্যবেক্ষণ, যৌথ আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা এবং বিপর্যয়ের সময় সীমান্ত পেরিয়ে সহযোগিতা জোরদার করার কথা বলেছেন তিনি।

‘হিমালয় শুধু পাহাড় নয়’

রাষ্ট্রসংঘে শাহ হিন্দুকুশ-হিমালয় অঞ্চলের গুরুত্বও তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এই অঞ্চল প্রায় ২০০ কোটি মানুষের জল, কৃষি, বাস্তুতন্ত্র ও জীবিকার সঙ্গে যুক্ত। তাই হিমালয়ের পরিবেশগত পরিবর্তনকে শুধুমাত্র কোনও একটি দেশের সমস্যা হিসেবে দেখলে চলবে না।

শাহের কথায়, হিমালয়কে বিচ্ছিন্ন তথ্যের সীমারেখা না বানিয়ে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ক্ষেত্র হিসেবে গড়ে তোলা প্রয়োজন। তাঁর প্রস্তাবের লক্ষ্যই হল বিপর্যয়ের আগে প্রস্তুতি এবং বিপর্যয়ের পরে দ্রুত সমন্বিত পদক্ষেপের ব্যবস্থা তৈরি করা।

সাম্প্রতিক বিপর্যয়ের প্রসঙ্গ

রাষ্ট্রসংঘের ভাষণে নেপালের সাম্প্রতিক ভটেকোশি-ত্রিশূলী বন্যার কথাও উল্লেখ করেন শাহ। তিনি ঘটনাটিকে শুধু নেপালের স্থানীয় বিপর্যয় নয়, বরং হিমালয় অঞ্চলে বাড়তে থাকা জলবায়ু ঝুঁকির সতর্কবার্তা হিসেবে তুলে ধরেন। পাশাপাশি বিপর্যয়ের পর সাহায্যের জন্য ভারত ও চিন-সহ বিভিন্ন দেশ ও সংস্থাকে ধন্যবাদ জানান।

শাহ আরও বলেন, নেপালের বৈশ্বিক গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণে অবদান ০.১ শতাংশেরও কম হলেও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব দেশটিকে বড় মূল্য দিতে হচ্ছে। তাঁর মতে, ঐতিহাসিকভাবে বেশি নিঃসরণকারী এবং বেশি সক্ষম দেশগুলির আরও বেশি দায়িত্ব নেওয়া প্রয়োজন।

জলবায়ু ন্যায়বিচারের দাবি

শাহের বক্তব্যে শুধু আঞ্চলিক সহযোগিতাই নয়, জলবায়ু অর্থায়নের বিষয়টিও উঠে আসে। বিপর্যস্ত দেশগুলিকে আরও পর্যাপ্ত সহায়তা এবং অনুদানভিত্তিক অর্থের প্রয়োজন রয়েছে বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে আগাম সতর্কীকরণ, জলবায়ু-সহনশীল পরিকাঠামো, বিমা ও স্থানীয় স্তরে প্রস্তুতি বাড়ানোর উপর জোর দেন।

অর্থাৎ, রাষ্ট্রসংঘের মঞ্চে নেপালের বার্তা স্পষ্ট—হিমালয়ের জলবায়ু বিপর্যয়কে আর কোনও এক দেশের সমস্যা হিসেবে নয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিষয় হিসেবে দেখতে হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Adblock Detected

Please Turn Off Your Ad Blocker.