ক্যাথলিক চার্চের প্রধান হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর এই প্রথম বিদেশ সফরে গেলেন পোপ লিও চতুর্দশ। বৃহস্পতিবার দুপুরে তিনি মুসলিম অধ্যুষিত দেশ তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় পৌঁছান। তুরস্কের পর তাঁর এই ছয় দিনের সফর শেষ হবে লেবাননে। তাঁর এই ঐতিহাসিক সফরকে ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলের কড়া নজর রয়েছে। বৃহস্পতিবার জিএমটি সময় ০৯:০০ টার কিছু পরে আঙ্কারায় অবতরণ করেন আমেরিকান বংশোদ্ভূত পোপ লিও। তুরস্কের মাটিতে তিন দিনের ঠাসা কর্মসূচি রয়েছে তাঁর, এরপর তিনি উড়ে যাবেন লেবাননে। এটি তাঁর প্রথম বিদেশ সফর হওয়ায় তাঁর বক্তৃতা এবং স্পর্শকাতর সাংস্কৃতিক স্থানগুলিতে তাঁর উপস্থিতি বিশেষভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে।জানা গেছে, এই সফরের মাধ্যমে পোপ সংঘাতপূর্ণ মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির জন্য জোরালো আবেদন জানাবেন এবং দীর্ঘকাল ধরে বিভক্ত খ্রিস্টান চার্চগুলির মধ্যে ঐক্যের আহ্বান জানাবেন।
রোম থেকে আসার পথে বিমান ভ্রমণের সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ৭০ বছর বয়সী পোপ লিও। তিনি বলেন, তাঁর এই প্রথম বিদেশ সফরের উদ্দেশ্য হলো বিশ্বজুড়ে শান্তির বার্তা দেওয়া এবং বিভিন্ন পটভূমির মানুষদের একসঙ্গে মিলেমিশে থাকার জন্য উৎসাহিত করা। তিনি বলেন, “আমরা আশা করি বিশ্বজুড়ে শান্তি কতটা গুরুত্বপূর্ণ, সেই বার্তা প্রচার করতে পারব। আর সব মানুষকে ঐক্য ও বৃহত্তর সম্প্রীতির জন্য এগিয়ে আসতে আহ্বান জানাব।”আঙ্কারায় পৌঁছানোর পর তিনি তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানের সঙ্গে বৈঠক করবেন এবং রাজনৈতিক নেতাদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দেবেন। এরদোয়ানের সঙ্গে সাক্ষাতের আগেই তিনি আধুনিক তুরস্কের প্রতিষ্ঠাতা মুস্তাফা কামাল আতাতুর্কের সমাধিস্থলে (আনিৎকাবির) শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
পোপ লিও চতুর্দশকে কার্ডিনালরা গত মে মাসে প্রয়াত পোপ ফ্রান্সিসের স্থলাভিষিক্ত হিসেবে নির্বাচিত করেন। উল্লেখ্য, তিনি প্রথম আমেরিকান যিনি পোপ নির্বাচিত হলেন। তুরস্ককে প্রথম গন্তব্য হিসেবে বেছে নেওয়ার একটি প্রতীকী কারণ রয়েছে। এটি একটি ঐতিহাসিক গির্জা পরিষদের ১,৭০০তম বার্ষিকী, যেখানে নাইসিনের মূল ধর্মমত (Nicene Creed) তৈরি হয়েছিল, যা আজও বিশ্বের বেশিরভাগ খ্রিস্টান ব্যবহার করেন।তুরস্কে সংক্ষিপ্ত সফরের পর, পোপ লিও বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ইস্তাম্বুলের উদ্দেশে উড়ে যাবেন, যা রোমান সাম্রাজ্যের প্রাক্তন রাজধানী কনস্টান্টিনোপল নামেও পরিচিত ছিল। এই সফরকে প্রতীকী হিসেবে দেখছেন যা প্রমাণ করে যে পোপ কেবল খ্রিস্টানদের সঙ্গেই নয়, অন্যান্য ধর্মের সঙ্গেও সংযোগ স্থাপন করতে আগ্রহী।
শুক্রবার পোপ লিও এবং ইস্তাম্বুলে বসবাসকারী বিশ্ব অর্থোডক্স খ্রিস্টানদের আধ্যাত্মিক নেতা প্যাট্রিয়ার্ক বার্থোলোমিউ একসঙ্গে ইজ়নিক (প্রাচীন নাইসিয়া) সফর করবেন। এই শহরটি ইস্তাম্বুল থেকে প্রায় ১৪০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এবং এখানেই খ্রিস্টানদের মূল ধর্মমত তৈরি হয়েছিল। রবিবার পোপ লিও রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটে বিধ্বস্ত লেবাননের উদ্দেশে রওনা হবেন। প্রায় এক বছর আগে যুদ্ধ বন্ধে যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েছিল, তা বারবার লঙ্ঘিত হচ্ছে এবং ইসরায়েলের বোমা হামলায় গত এক বছরে ৩৩০ জনেরও বেশি লেবানিজ নাগরিক নিহত হয়েছেন।
যদিও ভ্যাটিকান মুখপাত্র মাতেও ব্রুনি জানিয়েছেন, পোপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে তিনি নির্দিষ্ট কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি। পোপ লিও এই সফরে ইতালীয়র পরিবর্তে ইংরেজিতে ভাষণ দেবেন বলে মনে করা হচ্ছে।







