ইরানের রাজপথে এখন কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে মোল্লাতন্ত্রের পতনের স্লোগান। গত দশ দিন ধরে চলা সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত বিক্ষোভ এখন এক বিশাল গণআন্দোলনের রূপ নিয়েছে। এই আগুনি পরিস্থিতিতে ঘি ঢেলেছেন ইরানের নির্বাসিত যুবরাজ রেজা পাহলভি। আমেরিকার নিরাপদ আশ্রয়ে থেকে তিনি দেশের মানুষকে চূড়ান্ত লড়াইয়ের ডাক দিতেই তেহরান থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রাম সবখানেই বিদ্রোহের আগুন জ্বলে উঠেছে।
যুবরাজ পাহলভী বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার রাতে বড়সড় জমায়েতের ডাক দিয়েছিলেন। তাঁর সেই আহ্বানে সাড়া দিয়ে হাজারে হাজারে মানুষ রাস্তায় নেমে আসেন। ‘স্বৈরাচার নিপাত যাক’ ধ্বনিতে কেঁপে ওঠে ইরানের আকাশ-বাতাস। পরিস্থিতি এতটাই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে যে, আন্দোলনের তীব্রতা কমাতে গোটা দেশে ইন্টারনেট পরিষেবা পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে আয়াতোল্লা খামেনেই-এর প্রশাসন। বহির্বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করতে আন্তর্জাতিক ফোন কলের ওপরও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। আন্দোলনকারীরা সাফ জানাচ্ছেন, তাঁরা এবার শেষ দেখে ছাড়বেন। তাঁদের একটাই চাওয়া খামেনেই প্রশাসনের পতন এবং আবারও পাহলভি রাজবংশের হাতে শাসনভার ফিরে আসা।
কিন্তু এই গণদাবি দমাতে ইরান পুলিশ ও প্রশাসন ভয়ঙ্কর দমননীতি নিয়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি, গত এক সপ্তাহে পুলিশের গুলিতে ও হামলায় অন্তত ৩৫ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং প্রায় ১২০০ মানুষকে গরাদের পেছনে পোরা হয়েছে।
এই উত্তাল সময়ে আন্তর্জাতিক সাহায্যের আশায় ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বারস্থ হয়েছেন রেজা পাহলভি। তিনি ইউরোপের দেশগুলোকেও আমেরিকার সঙ্গে জোটবদ্ধ হওয়ার আবেদন জানিয়েছেন। এদিকে ট্রাম্পও হাত গুটিয়ে বসে নেই। তিনি সরাসরি খামেনেই প্রশাসনকে চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্টের স্পষ্ট কথা, যদি কোনো নিরস্ত্র প্রতিবাদীর ওপর হামলা বা হত্যা করা হয়, তবে আমেরিকাও পালটা মার দিতে দু’বার ভাববে না। সব মিলিয়ে ইরান এখন এক বারুদস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে, যেখানে সাধারণ মানুষের ‘শেষ যুদ্ধ’ আর প্রশাসনের ‘দমননীতি’ মুখোমুখি সংঘর্ষে লিপ্ত।







