বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের দাবি—প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রায় কার্যকর করতে তাঁকে ফেরত চায় ঢাকা। তবে হাসিনাকে প্রত্যর্পণ না হলে দুই দেশের সম্পর্ক ‘এক ইস্যুতে থমকে যাবে না’ বলেও রবিবার স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন সে দেশের বিদেশ উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন। তাঁর বক্তব্য, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক বহুমাত্রিক, ফলে একমাত্র হাসিনা প্রসঙ্গকে কেন্দ্র করে কূটনৈতিক আলোচনার গতি থেমে থাকবে বলে মনে করে না ঢাকা।
সম্প্রতি বাংলাদেশের ট্রাইবুনাল হাসিনাকে গণহত্যার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করে। এর পরই তাঁকে ফেরত চেয়ে ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হয়েছে। গত বছরের ছাত্রযুব আন্দোলনের পর ক্ষমতাচ্যুত হয়ে হাসিনা বর্তমানে ভারতে সাময়িকভাবে অবস্থান করছেন।
ঢাকায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তৌহিদ বলেন—
“শেখ হাসিনাকে ফেরত দেওয়া বা না-দেওয়া—এ একমাত্র বিষয় নয়। আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক তিস্তা জলবণ্টন, সীমান্তে বর্ডার কিলিংসহ একাধিক দিক নিয়ে বিস্তৃত। একটি আরেকটির উপর নির্ভরশীল নয়।”
তিনি আরও যোগ করেন, ঢাকার স্বার্থ রক্ষাই মূল লক্ষ্য, সময় লাগুক—প্রচেষ্টা চলবে।
কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, ঢাকার এই অবস্থান দুই দেশের আলোচনার ক্ষেত্রকে খোলা রাখতে সাহায্য করবে। কারণ, হাসিনা প্রত্যর্পণ প্রশ্নটি যতই সংবেদনশীল হোক, জলবণ্টন থেকে সীমান্ত নিরাপত্তা—দুই দেশের সহযোগিতার বহু ক্ষেত্রই সমান গুরুত্বপূর্ণ।
তবে তৌহিদ স্পষ্ট করেন,
“যেহেতু তিনি দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন, আমাদের অবস্থান পরিষ্কার—হাসিনাকে ফেরত চাই। যাতে রায় কার্যকর করা যায়।”
হাসিনার ১৫ বছরের ক্ষমতাকাল প্রসঙ্গ টেনে তাঁর দাবি, দীর্ঘ সময় দিল্লি-ঢাকা সম্পর্ক উষ্ণ থাকলেও তিস্তা বা সীমান্ত-হিংসা সমস্যা মেটেনি। ফলে “উষ্ণ কূটনীতি নয়, বাস্তব স্বার্থ সুরক্ষা”ই বাংলাদেশের লক্ষ্য বলে মন্তব্য বিদেশ উপদেষ্টার।
দুই দেশের ভবিষ্যৎ আলোচনায় কোন বিষয় অগ্রাধিকার পায়—এখন নজর সেদিকেই।







