সৌদি আরব ইসলাম ধর্মীয় দেশ বলেই পরিচিত। এবার সেখানেই পাওয়া গেল হিন্দু ঐতিহ্যের হদিশ। তবে এটা প্রথম নয় সৌদি আরবের তুওয়াইক পর্বতমালায় বহু সময় বিভিন্ন জিনিস আবিষ্কৃত হয়েছে। এই জায়গায় ২৮০৭টি কবরের আবিষ্কৃত হওয়ার পর এবার হদিস মিলল ৮ হাজার বছরের প্রাচীন দেবালয়ের।
বহু আগে আল-ফাওকে কিণ্ডা সাম্রাজ্যের রাজধানী বলে মনে করা হতো। সব সময়ের সঙ্গে প্রযুক্তিগত উন্নতির সঙ্গে অনেক ধ্যান-ধারণা বদলেছে। এবার গবেষকদের রীতিমতো চমকে দিল তুওয়াইক পর্বতমালায় প্রত্নতাত্ত্বিক খননের সময় এক অভূতপূর্ব আবিষ্কার। হদিশ মিলল ৮ হাজার বছরের পুরাতন একটি প্রস্তরমন্দির, যার গাত্রে খোদাই রয়েছে বিভিন্ন ধর্মীয় চিহ্ন। এমনকি মন্দিরের অভ্যন্তরে পাওয়া গিয়েছে একাধিক পূজা-পদ্ধতির নিদর্শন—যা স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত করছে, যে প্রাচীনকালে এই অঞ্চলের মানুষ ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে বিশ্বাসী ছিল। পাশাপাশি তারা নিয়মিত রীতি মিতি মেনে পূজা-অর্চনা প্রচলন করত।
এই ঐতিহাসিক আবিষ্কারের একটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো প্রাচীন সেচ ব্যবস্থা। এমনকি গবেষণায় উঠে এসেছে সেই সময়ের মানুষ বৃষ্টির জলকে ক্ষেতে নিয়ে যাওয়ার জন্য খাল, জলের ট্যাঙ্ক ও শত শত গর্ত তৈরি করত। যা প্রমাণ করছে, তারা কঠিন সময় মরুভূমির পরিস্থিতিতেও উন্নত জল ব্যবস্থাপনার পদ্ধতি সম্পর্কে অবগত ছিল। এই পর্বতমালার পাদদেশে খননকার্যের সময় নব্যপ্রস্তর যুগের স্পষ্ট ছাপ মিলেছে। একই সঙ্গে আবিষ্কৃত হয়েছে সেই সময়কার মানব বসতির ধ্বংসাবশেষ।
শক্ত পাথরের কারুকাজে নির্মিত যে প্রাচীন মন্দিরের খোঁজ পাওয়া গিয়েছে, তা শুধু স্থাপত্যের দিক থেকে নয়, ধর্মীয় চেতনার দিক থেকেও এক যুগান্তকারী নিদর্শন। মন্দির সংলগ্ন অঞ্চলে আবিষ্কৃত বেদি ও অন্যান্য উপাচার উপকরণ থেকে স্পষ্ট, প্রাচীন আল-ফাও এলাকার মানুষ পূজা-অর্চনা এবং ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে গভীরভাবে বিশ্বাসী ছিল।







