বীরভূমের নানুরে চোলাই মদের খোঁজে গিয়ে তাজা বোমার সন্ধান—এমন চাঞ্চল্যকর ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে গোটা এলাকা। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় গোপন সূত্রে খবর পেয়ে নানুর থানার পুলিশ ও আবগারি দফতরের যৌথ দল হানা দেয় মোহনপুর গ্রামের একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে। উদ্দেশ্য ছিল বেআইনি ভাবে মজুত করা চোলাই মদ উদ্ধার। কিন্তু সেই অভিযানে যা সামনে আসে, তাতে রীতিমতো চমকে ওঠেন তদন্তকারীরা।
বাড়ির ভিতরে টিনে ভর্তি বিশাল পরিমাণ চোলাই মদ নষ্ট করার সময় পুলিশকর্মীদের চোখ পড়ে ঘরের এক কোণে রাখা দু’টি বড় ড্রামের উপর। ড্রাম খুলতেই দেখা যায় প্রায় ৩০টি তাজা বোমার মজুত। তড়িঘড়ি বোমাগুলি নিষ্ক্রিয় করার জন্য খবর দেওয়া হয় সিআইডির বম্ব স্কোয়াডকে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বিস্ফোরকগুলি সম্পূর্ণ সক্রিয় অবস্থায় ছিল এবং যে কোনও সময় বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটতে পারত।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, বাড়িটির প্রকৃত মালিক তৈলঙ্গ কোঙার বহু দিন ধরেই অন্যত্র বসবাস করেন। ফাঁকা বাড়িটি নাকি দখল করে চোলাই তৈরির কারবার চালাচ্ছিলেন শান্ত কোঙার, যিনি এলাকার সক্রিয় তৃণমূল কর্মী হিসেবে পরিচিত। একই সঙ্গে তাঁর বৌমা মামনি দাস দু’বারের তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্যা। রাজনৈতিক পরিচিতির জেরে প্রতিবাদ করতে ভয় পেতেন স্থানীয়রা, এমন অভিযোগও উঠেছে।
অবশেষে পুলিশের অভিযানে গ্রেফতার করা হয়েছে শান্তকে। বোমা কার নির্দেশে ও কোন উদ্দেশ্যে রাখা হয়েছিল, তা নিয়ে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে নানুর থানার পুলিশ। ইলামবাজার এবং পাড়ুইয়ের পর নানুরে আবারও পরিত্যক্ত বাড়ি থেকে বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনায় রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। তবে চোলাই ও বিস্ফোরক উদ্ধারের বিষয়ে তৃণমূলের তরফে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।







