বাংলায় শীত যেন রাতারাতি নিজের দাপট বাড়িয়ে ফেলেছে। শহর হোক বা জেলা— সর্বত্রই পারদের পতন নজর কাড়ছে। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর জানাচ্ছে, রাজ্যে এখন শীত ঢোকার পথে কার্যত কোনও বাধাই নেই। ফলে আগামী তিন দিনে তাপমাত্রা এমনভাবে নামতে পারে, যা রেকর্ডের খাতা পালটাতে বাধ্য।
তাপমাত্রা নামছে ঝুপঝুপ করে
শীতের গতি থামাতে পারে— এমন কোনও আবহাওয়াজনিত সিস্টেম এখন দেশের পূর্বাঞ্চলে সক্রিয় নেই। তাই আলিপুরের পূর্বাভাস, রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় পারদ আরও ২–৩ ডিগ্রি নেমে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।
শীতপ্রেমীদের জন্য সুখবর, তবে সাধারণ মানুষের জন্য পরিস্থিতি বেশ কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
দক্ষিণবঙ্গে কাঁপুনি-ধরা পরিস্থিতি
দক্ষিণবঙ্গের নানা জেলায় ইতিমধ্যেই ঠান্ডার আঁচ স্পষ্ট।
বেশিরভাগ জেলাতেই তাপমাত্রা ১০–১২ ডিগ্রির মধ্যে
বাঁকুড়া, পুরুলিয়ার মতো পশ্চিমাঞ্চলে রাতেই নামছে ১০ ডিগ্রি ছুঁইছুঁই
শুষ্ক, কনকনে হাওয়া শরীরে ছুরি কাটার মতো অনুভূতি দিচ্ছে
ভোরে ঘন কুয়াশা যাতায়াতে সমস্যা বাড়াচ্ছে
শহর কলকাতাও পিছিয়ে নেই। মহানগরের পারদ নেমে এসেছে ১৫ ডিগ্রির নিচে, যা ডিসেম্বরের প্রথম ভাগের জন্য অস্বাভাবিক বলা চলে। আবহাওয়া দপ্তরের দাবি— আগামীকাল আরও একটি ডিগ্রি কমতে পারে।
উত্তরবঙ্গে শীতের ‘সুনামি’
এ বার নজর উত্তরবঙ্গের দিকে।
পাহাড়ে শুরু হয়েছে মরশুমের তীব্রতম ঠান্ডা।
দার্জিলিংয়ে পারদ নেমে ৫ ডিগ্রিতে
কালিম্পংয়ে তাপমাত্রা ৮–১০ ডিগ্রির মধ্যে দুলছে
হিমেল হাওয়ায় কাঁপছে গোটা পাহাড়ি অঞ্চল
এই সময় পর্যটনের ভরা মরসুম। তীব্র ঠান্ডা সত্ত্বেও দার্জিলিং–কালিম্পং–দুয়ারস উপচে পড়ছে পর্যটকে। কেউ কুয়াশার রাজ্যে হেঁটে বেড়াচ্ছেন, কেউ আবার নিজের চোখে বরফের মতো ঠান্ডার অনুভূতি ধরে রাখছেন মোবাইলে।
আগামী দিনেও রেহাই নেই
আবহাওয়াবিদদের দাবি, আগামী কয়েক দিন বাংলার প্রায় সর্বত্রই একই পরিস্থিতি বজায় থাকবে। দক্ষিণবঙ্গ-উত্তরবঙ্গ দুই অঞ্চলই ঠান্ডার দাপটে পরিপূর্ণ থাকবে।
শীতপ্রেমীদের জন্য সুখবর বটে, তবে সাধারণ মানুষের জন্য বাড়ছে সতর্কতার প্রয়োজন।







