১৪ বছর পর অপেক্ষার অবসান। বিশ্ব ফুটবলের তারকা লিওনেল মেসি শুক্রবার মধ্যরাতে শহরে পা রাখার পর থেকেই কলকাতা এখন উৎসবের শহরে পরিণত হয়েছে। আজ, শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) সকাল থেকেই তাঁর ঠাসা কর্মসূচি শুরু হয়েছে এবং তিনি ইতিমধ্যেই সল্টলেকের যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে প্রবেশ করেছেন।
মেসি গতকাল গভীর রাতে কলকাতার নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। সেখান থেকে তাঁকে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে দিয়ে শহরের হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়। ভক্তদের উন্মাদনা এতটাই বেশি যে, প্রশাসনকে তাঁর জন্য ‘জেড-ক্যাটাগরি’ নিরাপত্তা দিতে হয়েছে। বিমানবন্দর থেকে হোটেল পর্যন্ত রাস্তায় ছিল পুলিশের কড়া নজরদারি।
যুবভারতীতে যাওয়ার আগেই মেসি তার সফরের অন্যতম আকর্ষণ লেকটাউনে শ্রী ভূমি স্পোর্টিং ক্লাবের তৈরি ৭০ ফুট উঁচু বিশ্বকাপ ট্রফি হাতে নিজের মূর্তিটির ভার্চুয়ালি উদ্বোধন করেন। এই বিশাল মূর্তিটি ইতিমধ্যেই শহরে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। বেলা ১১:৩০ মিনিট নাগাদ বিশ্বজয়ী এই ফুটবলার সাদা গাড়িতে চেপে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে প্রবেশ করেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বার্সেলোনা সতীর্থ লুইস সুয়ারেস এবং রদ্রিগো দি পল। মেসি মাঠে পা রাখতেই উপস্থিত হাজার হাজার দর্শকের ‘মেসি-মেসি’ চিৎকারে গ্যালারি কেঁপে ওঠে। মেসি মাঠে ঢোকার পর থেকেই শুরু হয় মূল পর্বের অনুষ্ঠান। প্রখ্যাত সঙ্গীত শিল্পী অনীক ধরের সঙ্গীত পরিবেশনা এবং ঐতিহ্যবাহী নৃত্যনুষ্ঠানের মাধ্যমে মেসিকে স্বাগত জানানো হয়।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেট অধিনায়ক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় এবং বলিউড তারকা শাহরুখ খান-সহ একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। মেসি মাঠের চারদিকে ঘুরে সমর্থকদের দিকে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান এবং তাদের ভালোবাসা কুড়িয়ে নেন। এরপর তিনি মোহনবাগান অল স্টারস এবং ডায়মন্ড হারবার অল স্টারস দলের ফুটবলারদের সঙ্গে করমর্দন করেন।
বর্তমানে যুবভারতীতে মোহনবাগান অল স্টারস এবং ডায়মন্ড হারবার অল স্টারস দলের মধ্যে একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ চলছে, যার প্রথমার্ধের খেলা এখনও গোলশূন্য। এই সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠান শেষ করেই মেসি আজ কলকাতা ছেড়ে হায়দরাবাদের উদ্দেশে উড়ে যাবেন।







