হুগলির চুঁচুড়া বিধানসভার কোদালিয়া ২ নম্বর পঞ্চায়েতের সিমলেপুলল এলাকার বেনাভারুই গ্রামে মঙ্গলবার ছিল শীতলা মায়ের বাৎসরিক পুজো। বহু বছর ধরেই এই পুজো সাধারণ মানুষের উদ্যোগে হয়ে আসছে। এদিন পুজো উপলক্ষে মন্দিরে উপস্থিত ছিলেন বিজেপি নেতা রুদ্রনীল ঘোষ-সহ স্থানীয় দলের নেতারা। শুরুতে শান্তিপূর্ণভাবেই পুজো চলছিল।
তবে কিছু সময় পর মন্দির চত্বরে ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান ওঠে, আর তাতেই বদলে যায় পরিস্থিতির রং। স্থানীয়রা অভিযোগ তোলেন, শীতলা পুজো রাজনৈতিক রঙে রাঙাতে দেওয়া যাবে না। তাঁদের দাবি, এই পুজো একেবারেই ধর্মীয় এবং স্থানীয় সংস্কৃতির অংশ, রাজনীতির মঞ্চ নয়। ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগানের বিরোধিতায় পাল্টা ‘জয় বাংলা’ ধ্বনি ওঠে। এক স্থানীয় মহিলা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “এখানে মা শীতলার স্লোগান চলবে, জয় শ্রীরামের জায়গা নেই।”
ক্রমে উত্তেজনা বাড়ে। মন্দির চত্বরে শুরু হয় বচসা। একপর্যায়ে রুদ্রনীল ঘোষ-সহ বিজেপি নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে ‘গো ব্যাক’ স্লোগান ওঠে। জনরোষের মুখে পড়ে তাঁদের এলাকা ছাড়তে হয়। যদিও বিজেপি নেতৃত্ব এই ঘটনা নিয়ে প্রকাশ্যে মুখ খোলেননি।
রুদ্রনীল ঘোষ বলেন, “আমি হিন্দু সনাতনী হিসেবে পুজো দিতে গিয়েছিলাম, রাজনীতি করতে নয়।” তবুও এই ঘটনার পর রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গেছে—একটি ধর্মীয় পুজোর মঞ্চেও কেন এভাবে রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ছে?
এই ঘটনা আরও একবার দেখাল, বাংলায় ধর্ম আর রাজনীতির বিভাজন কতটা সংবেদনশীল হয়ে উঠছে।







