পারিবারিক অশান্তিতে বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়া বাবাকে খুঁজতে বেরিয়ে শেষ পর্যন্ত নিজেকেই হারাতে হল ছেলেকে। বাঁকুড়ার ছাতনা থানার ঝাঁটিপাহাড়ি আউটপোস্ট এলাকার তিলনা গ্রামে ভয়াবহ পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যু হল যুবক বুধন মণ্ডলের। একই দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে তাঁর এক বন্ধুরও। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও এক যুবক। এই মর্মান্তিক ঘটনায় শোকস্তব্ধ গোটা এলাকা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পুরুলিয়ার সাঁতুড়ি থানার ঘোড়ামুর্গা গ্রামের বাসিন্দা দলু মণ্ডল পারিবারিক বিবাদের জেরে বুধবার রাতে বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে যান। দীর্ঘ সময় কেটে গেলেও তাঁর কোনও খোঁজ না মেলায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন পরিবারের লোকজন। শেষ পর্যন্ত বাবাকে খুঁজে আনতেই দুই বন্ধু মডিরাম ঘোষাল ও বাপি ঘোষকে সঙ্গে নিয়ে মোটরবাইকে বের হন ছেলে বুধন মণ্ডল।
বুধবার গভীর রাতে বাঁকুড়া–শালতোড়া রাজ্য সড়ক ধরে ছাতনার তিলনা গ্রাম এলাকায় পৌঁছন তাঁরা। অভিযোগ, সেই সময় আচমকাই একটি দ্রুতগতির ডাম্পার বাইকের সামনে এসে পড়ে। মুখোমুখি সংঘর্ষে বাইক ছিটকে গিয়ে পড়ে রাস্তার ধারে। বিকট শব্দে ছুটে আসেন স্থানীয় বাসিন্দারা। রক্তাক্ত অবস্থায় তিনজনকেই উদ্ধার করে প্রথমে ছাতনা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে এবং পরে বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা বুধন মণ্ডল ও মডিরাম ঘোষালকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। বাপি ঘোষের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই ঘোড়ামুর্গা গ্রামে নেমে আসে শোকের ছায়া। মৃত বুধনের ভাই সদানন্দ মণ্ডল বলেন, “বাবাকে বাড়ি ফিরিয়ে আনার জন্যই দাদা বেরিয়েছিল। ভাবতেও পারিনি, এটাই ওর শেষ যাত্রা হবে।” পুলিশ ডাম্পারটিকে আটক করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।







