দেশের সাহিত্য জগতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার ঘোষণা ঘিরে অস্বাভাবিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার দিল্লির রবীন্দ্র ভবনে নির্ধারিত সাংবাদিক বৈঠকে এ বছরের পুরস্কারপ্রাপকদের নাম ঘোষণার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে তা স্থগিত করা হয়। এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে কেন্দ্রীয় সরকারের হস্তক্ষেপের অভিযোগ উঠেছে, যা সাহিত্য মহলে উদ্বেগ ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
সূত্র জানায়, নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী বৃহস্পতিবার বিকেল তিনটায় ২৪টি ভারতীয় ভাষার সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কারপ্রাপকদের নাম ঘোষণা করার কথা ছিল। তার আগেই অকাদেমির এক্সিকিউটিভ বোর্ডের বৈঠকে প্রাপকদের নাম চূড়ান্ত করা হয়। তবে সাংবাদিক বৈঠক শুরুর কিছুক্ষণ আগে কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি মন্ত্রকের তরফে ঘোষণা স্থগিত রাখার নির্দেশ আসে বলে অভিযোগ। মন্ত্রক নাকি বিজয়ীদের নামের তালিকা নতুন করে পর্যালোচনা করতে চেয়েছে এবং পুরস্কার প্রদানের নিয়মনীতি বা কাঠামোয় কিছু পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছে।
এই ঘটনায় সাহিত্য অকাদেমির স্বশাসন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অকাদেমির কয়েকজন সদস্য মনে করছেন, স্বশাসিত প্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্তে এ ধরনের হস্তক্ষেপ সংস্থার স্বাধীনতাকে ক্ষুণ্ন করে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সদস্য বলেন, বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুমোদনের পরেও তালিকা প্রকাশে বাধা দেওয়া অত্যন্ত অনভিপ্রেত।
ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। সাহিত্য অকাদেমির প্রাক্তন সচিব ও কবি কে সচ্চিদানন্দন এক ফেসবুক পোস্টে অভিযোগ করেন, জুরি ও এক্সিকিউটিভ বোর্ডের সিদ্ধান্ত সত্ত্বেও কেন্দ্রীয় সরকার পুরস্কার ঘোষণা আটকে দিয়েছে, যা অকাদেমির স্বায়ত্ত্বশাসনের পরিপন্থী।
তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সাহিত্য অকাদেমির সভাপতি মাধব কৌশিক। তিনি জানান, তালিকা চূড়ান্ত করতে আরও কিছু সময় প্রয়োজন হওয়ায় ঘোষণা স্থগিত করা হয়েছে। তাঁর দাবি, কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে কোনও ধরনের হস্তক্ষেপ হয়নি।
প্রতি বছর সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার দেশের বিভিন্ন ভাষার সাহিত্যিকদের সম্মানিত করে। এবারের ঘটনা সেই প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও স্বাধীনতা নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।







