বিজয় হাজারে ট্রফির প্রথম দিনেই ভারতীয় ক্রিকেটের মেজাজ যেন এক ধাক্কায় অনেকটা বদলে গেল। জয়পুর থেকে বেঙ্গালুরু সব জায়গাতেই এদিন ছিল উৎসবের আমেজ। কারণ একটাই, দীর্ঘ বিরতির পর ঘরোয়া ক্রিকেটে ফিরেছেন দেশের দুই মহাতারকা রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলি। আর মাঠে ফিরেই নিজেদের চেনা মেজাজে ধরা দিলেন দুজনেই। জয়পুরের সওয়াই মানসিং স্টেডিয়ামে রোহিত যখন সিকিমের বোলারদের পিটিয়ে সেঞ্চুরি করছেন, ঠিক তখনই বেঙ্গালুরুতে অন্ধ্রপ্রদেশের বিরুদ্ধে ঝোড়ো হাফ-সেঞ্চুরি হাঁকালেন কোহলি।
মুম্বইয়ের হয়ে ২৩৭ রান তাড়া করতে নেমে রোহিত শর্মা শুরু থেকেই ছিলেন মারকুটে মেজাজে। গ্যালারিতে তখন হাজার হাজার মানুষের চিৎকার। প্রথম কয়েক ওভার দেখেশুনে নেওয়ার পরেই খুনে মেজাজে ধরা দেন ভারত অধিনায়ক। মাঠের চারদিকে চার-ছক্কার বন্যা বইয়ে দিয়ে দ্রুত শতরান পূর্ণ করেন তিনি। এটি তাঁর লিস্ট-এ ক্যারিয়ারের অন্যতম দ্রুততম সেঞ্চুরি। রোহিতের ব্যাটিং দেখে উচ্ছ্বসিত দর্শকরা তখন গ্যালারি থেকে গান ধরেন ‘গম্ভীর, তুমি কি দেখছ?’, যা মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়।
অন্যদিকে, দিল্লির হয়ে ১২ বছর পর ঘরোয়া ওয়ানডে খেলতে নামা বিরাট কোহলিও ভক্তদের হতাশ করেননি। অন্ধ্রপ্রদেশের ২৯৮ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে তিনি মাত্র ৩৯ বলে নিজের অর্ধশতরান পূর্ণ করেন। যদিও ব্যক্তিগত ৩২ রানের মাথায় একবার তাঁর ক্যাচ পড়েছিল, কিন্তু সেই সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে ভুল করেননি বিরাট। তাঁর ইনিংসে দেখা গেছে বেশ কিছু নান্দনিক কভার ড্রাইভ এবং স্ট্রেট ড্রাইভ, যা কোহলি-ভক্তদের জন্য ছিল বড় প্রাপ্তি।
তবে এই দুই মহাতারকার মাঝেও আলাদা করে নজর কেড়েছেন ঝাড়খণ্ডের ঈশান কিষাণ। কর্ণাটকের বিরুদ্ধে মাত্র ৩৩ বলে সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে ক্রিকেট বিশ্বকে স্তম্ভিত করে দিয়েছেন এই বাঁহাতি ব্যাটার। বিহারের হয়ে খেলতে নেমে ১৪ বছরের বৈভব সূর্যবংশীও রেকর্ড গড়েছেন ৩৬ বলে শতরান করে। সব মিলিয়ে বিহার এদিন ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসে সর্বোচ্চ দলীয় রানের বিশ্বরেকর্ডও নিজেদের নামে করে নিয়েছে।
রোহিত-কোহলিদের এই দাপুটে প্রত্যাবর্তন ২০২৭ বিশ্বকাপ পরিকল্পনার পথে এক ইতিবাচক বার্তা দিল। যদিও এই ম্যাচগুলোর সরাসরি সম্প্রচার ছিল না, তবুও সোশ্যাল মিডিয়া আর মাঠের দর্শকদের মাধ্যমে দুই কিংবদন্তির ব্যাটিংয়ের প্রতিটি মুহূর্ত ভক্তদের কাছে পৌঁছে গেছে।







