বাংলাদেশের তারকা পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনায় নতুন করে চড়ছে ভারত–বাংলাদেশ কূটনৈতিক উত্তেজনা। অন্তর্বর্তী ইউনূস সরকারের সঙ্গে নয়াদিল্লির সম্পর্ক এমনিতেই চাপের মুখে, তার মধ্যেই এবার প্রশ্ন উঠল বাংলাদেশে ভারতীয় ক্রিকেট লিগ আইপিএল-এর সম্প্রচার ভবিষ্যৎ নিয়েও।
রবিবার বাংলাদেশের আইন মন্ত্রকের তরফে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রককে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে, দেশে আইপিএল সম্প্রচার বন্ধ করার বিষয়টি বিবেচনা করতে। এই অনুরোধ ঘিরেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে তীব্র জল্পনা।
বাংলাদেশের আইন উপদেষ্টা তথা যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রকের ভারপ্রাপ্ত উপদেষ্টা আসিফ নজরুল নিজের সমাজমাধ্যমে লেখেন, “আমি তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রকের উপদেষ্টাকে অনুরোধ করেছি, বাংলাদেশে আইপিএল খেলার সম্প্রচার যেন বন্ধ করে দেওয়া হয়। এই অবমাননা কোনও অবস্থাতেই আমরা মেনে নিতে পারি না।” যদিও এখনও পর্যন্ত আইপিএল সম্প্রচার বন্ধের বিষয়ে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
এদিন তথ্য ও সম্প্রচার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দফতরের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা জানান, “এই বিষয়ে আইনি ভিত্তি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। চুপ করে বসে থাকা কোনও সমাধান নয়।” প্রথম আলো-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, সরকার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে পর্যালোচনা করছে।
প্রসঙ্গত, কিছুদিন আগেই আইপিএলের নিলামে ৯ কোটি ২০ লক্ষ টাকায় মুস্তাফিজুর রহমানকে দলে নেয় কলকাতা নাইট রাইডার্স। কিন্তু শনিবার জানা যায়, ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের তরফে তাঁকে খেলতে না দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেই সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসতেই শুরু হয় বিতর্ক।
এই প্রসঙ্গে রিজওয়ানা প্রশ্ন তুলে বলেন, “কোন যুক্তিতে মুস্তাফিজুরকে মানা করা হচ্ছে? খেলাধুলার কারণ হলে এত দূর বিষয় গড়াত না। যে যুক্তি দেওয়া হয়েছে, তা আমরা কোনওভাবেই মেনে নিতে পারছি না। খেলাকে যদি খেলাই থাকতে দেওয়া যেত, তাহলে ভালো হত। কিন্তু এখানে রাজনীতিকে টেনে আনা হয়েছে।”
ইঙ্গিত স্পষ্ট—মুস্তাফিজুর বিতর্কের জেরে শুধু আইপিএল নয়, ভারত–বাংলাদেশ ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎও নতুন করে প্রশ্নের মুখে। আসন্ন আইপিএল মরসুম শুরু হওয়ার আগেই এই সিদ্ধান্ত কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই এখন তাকিয়ে দুই দেশের ক্রীড়া ও রাজনৈতিক মহল।







