স্বামী বিবেকানন্দের জন্মদিবসে সিমলা স্ট্রিটে একটি হোর্ডিং ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক। স্বামীজির পৈতৃক ভিটের সামনে টাঙানো ওই পোস্টারে কেবলমাত্র তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি ছিল, স্বামীজির কোনও ছবি ছিল না। পোস্টারে লেখা— ‘স্বাগতম যুবরাজ’। বিতর্কের আঁচ ছড়াতেই অবিলম্বে পোস্টার সরানোর নির্দেশ দেন স্বয়ং অভিষেক।
তৃণমূল সূত্রে খবর, সোমবার সকাল থেকেই বিষয়টি অভিষেকের নজরে আনা হয়। তার পরেই তিনি জোড়াসাঁকোর বিধায়ক বিবেক গুপ্তকে ওই হোর্ডিং সরানোর নির্দেশ দেন। সন্ধ্যার পর থেকে পোস্টার খুলে ফেলার তৎপরতা শুরু হয়। ক্যামাক স্ট্রিট সূত্রের দাবি, গোটা ঘটনায় অভিষেক যথেষ্ট ক্ষুব্ধ।
ঘটনাচক্রে, সিমলা স্ট্রিটের ওই এলাকা শ্যামপুকুর বিধানসভার অন্তর্গত, যেখানে বিধায়ক রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজা। সে এলাকা ‘টপকে’ কেন অন্য বিধায়ক সেখানে হোর্ডিং টাঙাতে গেলেন, তা নিয়েও তৃণমূলের অন্দরে প্রশ্ন উঠেছে। বিবেক গুপ্তকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি প্রতিক্রিয়া দেননি।
এদিকে পোস্টার বিতর্ক ঘিরে সকাল থেকেই তৃণমূলকে আক্রমণ করে বিজেপি। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর অভিযোগ, স্বামীজির জন্মদিনে তাঁর বাড়ির সামনে এমন পোস্টার বসিয়ে স্বামী বিবেকানন্দকেই অসম্মান করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারও কড়া ভাষায় আক্রমণ শানান।
প্রথমে তৃণমূলের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ায় বিজেপিকে পাল্টা আক্রমণ করা হলেও, বিতর্ক যে বাড়তে পারে তা আঁচ করেছিলেন শাসকদলের নেতারাও। একাধিক মুখপাত্র প্রতিক্রিয়া এড়িয়ে যান। শেষ পর্যন্ত বিকেলে হস্তক্ষেপ করেন অভিষেক নিজেই।
দলীয় সূত্রের মতে, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিবেক গুপ্তর টিকিট পাওয়া নিয়ে যে জল্পনা চলছিল, এই পোস্টার বিতর্ক তা আরও বাড়াল। পোস্টার সরানোর নির্দেশে স্পষ্ট বার্তা দিল তৃণমূল— স্বামী বিবেকানন্দের মতো মহান ব্যক্তিত্বের জন্মদিবসে কোনও রাজনৈতিক প্রদর্শনী বরদাস্ত নয়।







